সোমবার, সেপ্টেম্বর 14, 2026
14:23:34 | কলকাতা

নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের সংঘাত চরমে,আজ দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্য সচিব!

NewsRecent News

জিৎ দত্ত,মানুষের মতামত:২০২৬ সালের ভোট এখনও দূরে, কিন্তু নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সংঘাতের আঁচ আগেভাগেই তীব্র হচ্ছে। সদ্য প্রকাশ্যে এসেছে এমন এক বিরোধ, যেখানে এসআইআর (SIR) বিতর্ক ঘিরে মুখ্য সচিব মনোজ পন্থকে সরাসরি দিল্লিতে হাজিরার নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে আজ দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যসচিব। নবান্ন সূত্রে এ বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত কমিশনের অভিযোগ থেকে—বারুইপুর পূর্ব ও ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের দুই ইআরও, দুই সহকারী ইআরও এবং এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। কমিশনের দাবি,সরকারি নথি অপব্যবহার করে ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল ভোটার তালিকায়। এই কারণে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর ও সাসপেনশনের নির্দেশ দেয় কমিশন।

কিন্তু নবান্ন সেই নির্দেশ পুরোপুরি মানেনি। মুখ্য সচিবের পক্ষ থেকে সোমবার চিঠি দিয়ে জানানো হয়, আপাতত কঠোর শাস্তি নয়, বরং অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে। পাঁচ অভিযুক্তের মধ্যে কেবল দু’জনকে—এক আধিকারিক ও এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে—ভোট সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে, বাকিদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

কমিশনের চোখে এটি স্পষ্ট অমান্য। ফলস্বরূপ, চিঠি পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্য সচিবকে দিল্লিতে তলব করে আনুষ্ঠানিক নোটিস পাঠায় কমিশন। সেখানে বলা হয়েছে, বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে জবাব দিতে হবে।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা—অতীতে কমিশনের সঙ্গে লড়াইয়ে গিয়ে নবান্ন প্রায়শই দীর্ঘ টানাপোড়েনের পথ বেছে নিয়েছে, কিন্তু এবার মুখ্য সচিব সময়মতো আজ দিল্লি যাচ্ছেন কিনা, সেটিই এখন নজরে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, কোনও সরকারি আধিকারিককে শাস্তি পেতে দেবেন না। ফলে এই সাক্ষাৎ কেবল প্রশাসনিক নয়,রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

সংঘাতের এই নতুন পর্বে নজর এখন বুধবারের দিল্লি বৈঠকে—যেখানে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাকে সরাসরি কমিশনের মুখোমুখি হতে হবে।

Share with

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।