মমতার পাশে শুভেন্দু থাকলে কি বদলাতো আজকের ছবি?উত্তর খুঁজছে বঙ্গ রাজনীতি
শুভেন্দু অধিকারীর ২০২০ সালের দলত্যাগের পর বদলে যায় বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ।তৃণমূলের বর্তমান সংকটের মাঝে ফের আলোচনায় সেই সিদ্ধান্ত ও নন্দীগ্রামের রাজনীতি।
নাজমুল হাসান,মানুষের মতামত:শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে তৃণমূলের অতীত রাজনৈতিক সমীকরণ ফের আলোচনার কেন্দ্রে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু। এরপর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জয় পান তিনি। পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালে নন্দীগ্রাম থেকেই ফের জয় পেয়েছেন শুভেন্দু এবং বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর দলত্যাগের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক রাজনীতিতে তার প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে গোটা জঙ্গলমহল সহ উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক প্রভাবকে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়। নন্দীগ্রামের ২০২১ সালের লড়াই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মোড় হিসেবে সামনে আসে।
এদিকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে। দলীয় নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে দুই গোষ্ঠীর বিরোধের পর নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং সংরক্ষিত প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে দুই গোষ্ঠীকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই রাজনৈতিক মহলে ফিরে আসছে ২০২০ সালের সেই প্রশ্ন—শুভেন্দু অধিকারী যদি তৃণমূল না ছাড়তেন, তাহলে কি আজকের রাজনৈতিক সমীকরণ অন্যরকম হতে পারত?
এর কোনও নিশ্চিত উত্তর নেই।এটি মূলত একটি রাজনৈতিক অনুমান।তবে ঘটনাপ্রবাহ বলছে,শুভেন্দুর দলত্যাগের পর তাঁর রাজনৈতিক পথ এবং তৃণমূলের পথ সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে এগিয়েছে। একদিকে তিনি বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে পৌঁছেছেন, অন্যদিকে তৃণমূল বর্তমানে দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের মুখে। ফলে ২০২০ সালের সেই বিচ্ছেদ আজকের বাংলার রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে—সেটি কি ছিল শুধুই একজন নেতার দলবদল,নাকি রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বড় মোড়?
