সিপিএমকে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তুলনা! যাদবপুরের পড়ুয়াদেরও কটাক্ষ,অঙ্কন দত্তের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক!

নিজস্ব প্রতিবেদক, মানুষের মতামত:রাজনৈতিক বিরোধিতা যে কখনও কখনও ভাষার সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে,তারই নজির মিলল বিজেপি মুখপাত্র অঙ্কন দত্তের সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে। ইউটিউব চ্যানেলের সেই বিশেষ সাক্ষাৎকারে সিপিআই(এম)-কে নিশানা করে অঙ্কন বলেন, “আলিমুদ্দিন আর আনসারউল্লার মধ্যে কোনও তফাৎ নেই।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সিপিএমকে কার্যত একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তুলনা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুধু সিপিএম নয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিয়েও অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় কটাক্ষ করেন অঙ্কন বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে সিপিএম সমর্থকদের “জামাতিদের ভাই” বলেও আক্রমণ করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অঙ্কনের এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক ভাষা নিয়ে। কোনও দলের নীতি বা কাজের সমালোচনা করা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু বিরোধী দলকে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে এক করে দেখা, ছাত্রদের অপমান করা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে কটাক্ষ করা—এসব কি রাজনৈতিক যুক্তির বিকল্প হতে পারে?
সমালোচকদের বক্তব্য, যুক্তি দিয়ে মানুষের মন জয় করার বদলে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কটূক্তি রাজনীতিকে আরও নিচে নামায়। রাজনৈতিক মঞ্চে এমন ভাষা সাময়িকভাবে শিরোনাম তৈরি করলেও সুস্থ গণতন্ত্রের পরিবেশে তা শেষ পর্যন্ত বিভাজনই বাড়ায়।
বাংলার রাজনীতিতে কি আবারও তৈরি হচ্ছে অশালীন,যুক্তিহীন ও গায়ের জোরের রাজনীতির পরিবেশ? রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু মতের বিরোধিতা করতে গিয়ে যখন যুক্তির বদলে কটূক্তি,ব্যক্তিগত আক্রমণ,অপমানজনক শব্দ আর উসকানিমূলক মন্তব্য সামনে আসে, তখন প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। বিরোধী দলের সমালোচনা হোক তথ্য ও যুক্তি দিয়ে, সরকারের সমালোচনা হোক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে—এটাই সুস্থ গণতন্ত্রের দাবি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করতে যদি ভাষার সমস্ত সীমা ভেঙে দেওয়া হয়,তাহলে সেই রাজনীতি সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা দেয়? বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাসে তর্ক ছিল, মতের লড়াই ছিল,কিন্তু যুক্তির জায়গা দখল করে কদর্য ভাষা আর গায়ের জোরের রাজনীতি কতটা গ্রহণযোগ্য—সেই প্রশ্নই এখন ক্রমশ বড় হয়ে উঠছে।
