পুলিশি অতি সক্রিয়তার অভিযোগ তুলে আদালতে পরিবার, মুখ্যমন্ত্রী বললেন কেউ ক্ষতিপূরণ নিতে না চাইলে আমার তো কিছু করার নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক,মানুষের মতামত:কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা থেকে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়ে গেলেন যে তার সরকার সকলকেই সাহায্য করতে চায়। কিন্তু কেউ যদি এই সাহায্য না নেয় বা না নিতে চায় তার জন্য তো কিছু করার থাকে না।
প্রসঙ্গত গতকাল থেকেই মুর্শিদাবাদের মৃতদের পরিবার নিয়ে পুলিশ এবং বিজেপির মধ্যে টানাপোড়ন চলছে। তাদের সল্টলেকের একটি বাড়িতে এনে রাখা হয়েছিল।মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পুরসভার অন্তর্গত জাফরাবাদের বাসিন্দা – নিহত হরগোবিন্দ দাস এবং চন্দন দাসের পরিবারের সদস্যরা সম্প্রতি কলকাতা লাগোয়া সল্টলেকে এসে থাকছিলেন! তাঁরা সল্টলেকের একটি বাড়িতেই ছিলেন। পুলিশের কাছে অভিযোগ ছিল তাদের অপহরণ করে নিয়ে আসা হয়েছে।সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই মুর্শিদাবাদের পুলিশ সল্টলেকে পৌঁছে যায় এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে চায়। পুলিশের তরফ থেকে দাবি করা হয়, পরিবারের সদস্যরা নাকি পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। এই অবস্থায় আবার পরিবারের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে পুলিশ জোর করে তাদের ঘরে ঢোকার চেষ্টা করেছে। তাদের দাবি ছিল জোর করে নাকি পুলিশ তাদের তুলে নিয়ে যেতে চাইছে। এক্ষেত্রে রাজ্যপাল কে চিঠি পর্যন্ত দেয় মুর্শিদাবাদের ওই পরিবার, এবারে পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
এই অবস্থায় সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদ যাওয়ার আগে জানিয়ে যান, মুর্শিদাবাদে আমি আগেই যেতে পারতাম। কিন্তু ওখানে গিয়ে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হোক আমি সেটা চাইনি। আমি চেয়েছিলাম পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন মিলে মানুষের আস্থা অর্জন করুক। যতক্ষণ শান্তি প্রতিষ্ঠা না হয়, আমাদের সেখানে গিয়ে পরিবেশ আরো খারাপ করা উচিত হবে না। তবে এই মুহূর্তে পরিস্থিতির স্টেবেল হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তারপরেও আমাদের জগন্নাথ ধামের প্রোগ্রাম ছিল। অনেকদিন আগেই তা ঘোষণা করেছিলাম। সুতরাং এই প্রোগ্রাম করে আজ আমি যাচ্ছি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন এখন যা আবহাওয়া তাতে হেলিকপ্টারে যাওয়া সুরক্ষিত নয়। হঠাৎ হঠাৎ করে বৃষ্টি এসে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সবকিছু চিন্তা করেই আমাকে প্রোগ্রাম করতে হয়। বিজেপির লোকেরা তো একটা কামরা নিয়েই চলে যায়। আমরা তো ট্রেন হায়ার করার পরেও তা পাই না। কিন্তু কিভাবে বিজেপি নেতাদের জন্য চার কামরা ট্রেন বরাদ্দ হয়। সাধারণও এগুলি মন্ত্রী,ডিভিশনাল কমিশনার, ইঞ্জিনিয়ার এবং জিএসদের জন্যই ধার্য হয়। আমি দুবারের রেলমন্ত্রী ছিলাম আমি কখনোই এই ধরনের সুবিধা নেই নি। সাধারণত আমি কমন ট্রেনে যেতাম। ওদের সরকার রয়েছে তাই সেলুন কার পায়। আমাদের তেমন সুযোগ নেই।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে আমি বহরমপুর যাব। এরপর দুই তৃতীয়াংশ পথ আমাকে সড়কপথে যেতে হবে। আজকে বহরমপুরে মুখ্য সচিব প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। এরপর কাল আমি ধুলিয়ান যাব। আমি জানি ধুলিয়ান থেকে সকলকে নিয়ে আসা হয়েছে। গিয়ে থাকবেন কে থাকবেন না তাদের নিজস্ব মর্জি। ওরা ইতিমধ্যে ই টাকা দিয়ে দিয়েছে। আমাদের দিক থেকেও সাহায্য দেওয়ার জন্যই যাচ্ছি। কেউ যদি বলেন টাকা নেবেন না। বা বাড়িতে থাকবেন না সেটা তো আমাদের হাতে নেই। কিন্তু যারা আসবেন আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব। যেমনটা বলেছিলাম যাদের বাড়ি ভাঙ্গা হয়েছে তাদের বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আওতায় বাড়ি করে দেয়া হবে। গাড়ির দোকান লুট হয়েছে তাদেরও অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন ধুলিয়ান থেকে তিনি যাবেন সুতিতে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পরিষেবা প্রদানের একটি অনুষ্ঠান রয়েছে। সেখান থেকে বহরমপুর ফিরে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী তারপর পরশুদিন অর্থাৎ বুধবার কলকাতায় ফিরবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।