রবিবার, সেপ্টেম্বর 13, 2026
23:32:09 | কলকাতা

বিজেপির অন্তদ্বন্দ্বের ফায়দা তুলতে মরিয়া কংগ্রেস!নজর মুসলিম-দলিত ভোটে—উত্তরপ্রদেশে বদলের অঙ্ক?

Nationalরাজনীতি

উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মুসলিম,দলিত ও ওবিসি ভোটে নজর কংগ্রেসের। অজয় রাইয়ের বদলে মুসলিম মুখের জল্পনা, পাশাপাশি যোগী-বিরোধী বিজেপি শিবিরের দ্বন্দ্ব কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, মানুষের মতামত:সামনের বছর প্রথমের দিকেই উত্তর প্রদেশের হাই ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন। একই সঙ্গে উত্তরাখণ্ড ও পাঞ্জাবের নির্বাচন। এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ইতিমধ্যে সক্রিয় হয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। উত্তর প্রদেশের কংগ্রেস নেতাদের জাতীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব নির্দেশ দিয়েছেন মুসলিম এবং দলিতদের মধ্যে তারা যেন সমর্থনের গণভিত্তি গড়ে তুলতে এখন থেকেই সচেষ্ট হন।

উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের বর্তমান সভাপতি অজয় রাইয়ের বদলে একজন মুসলিম মুখ আনারও প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। চিন্তাভাবনা চলছে কংগ্রেসের অন্তরে। ইমরান প্রতাপগড়ীর নাম নিয়েও আলোচনা চলছে। তিন-চার জন মুসলিম নেতার নাম নিয়ে বিবেচনা চলছে। কংগ্রেস দলিত এবং মুসলিম ভোটের উপর বেশি জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে তাদের ইন্ডিয়া জোট সঙ্গী সমাজবাদী পার্টি যাদব-মুসলিম সমীকরণে তাদের গণভিত্তিকে জোরদার করতে চাইছে। দলিত ও মুসলমানদের মধ্যে কংগ্রেসের অতীতের যে জনসমর্থন ছিল তা ফিরিয়ে আনাই হলো রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা ও মল্লিকার্জুন খাড়গের মতন কংগ্রেস নেতাদের লক্ষ্য।

সোনিয়া গান্ধী এ ব্যাপারে কংগ্রেস নেতাদের দলিত ও মুসলিমদের ব্যাপারে বেশি নজর দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে এ ব্যাপারে জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কথা হয়েছে। রাহুল গান্ধী নিজে এ নিয়ে সক্রিয়। উত্তর প্রদেশে ওবিসিদের পাশে পেতেও স্ট্র্যাটেজি সাজাচ্ছে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি।

কংগ্রেসের লক্ষ্য বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বকে কাজে লাগানো। উত্তর প্রদেশে বিজেপির অন্তরে যোগী আদিত্যনাথ ও তার সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে এখন সংঘাত চরম। শোনা যাচ্ছে যে অমিত শাহর পরামর্শে কেশব প্রসাদ মৌর্য সহ যোগী বিরোধীরা এখন সক্রিয়। কংগ্রেসের লক্ষ্য হচ্ছে বিজেপির অন্তরের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে সংগঠিত করা।উত্তর প্রদেশের নির্বাচনকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে জাতীয় কংগ্রেস। ইন্ডিয়া জোট শরিকরাও মনে করেন উত্তর প্রদেশে হাল বদল করা সম্ভব হলে, বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব হলে জাতীয় ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে উঠবে। যোগী আদিত্যনাথের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি সম্পর্কে অবশ্য কোনো সন্দেহ নেই কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোট নেতাদের। কিন্তু যোগী ও অমিত শাহর সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে বাজিমাত করার স্বপ্ন দেখছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি সহ ইন্ডিয়া জোট শরিকরা।

Share with

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।