শুভেন্দুর গদি ‘টেম্পোরারি’ হুঙ্কার কল্যাণের,২০ সাংসদের পদ খারিজের চ্যালেঞ্জ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, মানুষের মতামত: শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রিত্বও ‘টেম্পোরারি’—এই ভাষাতেই কড়া আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৮ আগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে ভবানীপুরের ভোটগণনা এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর চার স্তবক নিয়ে শুভেন্দুকে জোড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। একই সঙ্গে ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ খারিজ এবং সংশ্লিষ্ট আসনগুলিতে পুনর্নির্বাচন করানোর দাবি করেন কল্যাণ।
প্রথম চ্যালেঞ্জে ভবানীপুরের ভোটগণনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান সাংসদ। জনতার সামনে ওই কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনা করার কথাও বলেন তিনি। এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকেও তীব্র কটাক্ষ করেন কল্যাণ। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জে শুভেন্দুকে একা ‘বন্দে মাতরম’-এর চার স্তবক গেয়ে শোনাতে বলেন। তা না পারলে তাঁকে ‘পশ্চিমবঙ্গের জোকার’ বলে কটাক্ষ করার কথাও শোনা যায় তাঁর মুখে।
শুভেন্দুর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে কল্যাণ বলেন, “আপনি যতদিন মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন আপনাকে আমি সংবিধান শেখাব।” তাঁর আরও মন্তব্য, “আপনার হিসেব ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে সুপ্রিম কোর্টে তুলে নেব।”
সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের প্রসঙ্গেও সুর চড়ান কল্যাণ। তাঁর দাবি, ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে উদ্যোগ শুরু হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে তাঁদের আসনগুলিতে পুনর্নির্বাচন করানোর কথাও বলেন তিনি। পরবর্তী ধাপে ৬০ জনের পদ খারিজের চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন সাংসদ।
ছাত্রকর্মীদের উদ্দেশে কল্যাণের বার্তা, বাধা বা জেলের ভয় পেয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। ‘জেনজি’-র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দশ বার জেলে পাঠালেও বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে এবং শুভেন্দুর বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে ফের আন্দোলনে নামতে হবে।
দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধেও ‘চুরি-জোচ্চুরি’র অভিযোগ তোলেন কল্যাণ। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে শুভেন্দুর প্রভাব থাকার অভিযোগ করে সেই পদকে ‘টেম্পোরারি’ বলে কটাক্ষ করেন। একই শব্দে শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রিত্বকে নিশানা করে তাঁর হুঁশিয়ারি, “দিন ঘনিয়ে এসেছে। আটকাতে পারবেন না।”
