গরুর ঢেকুরে মিথেন:জলবায়ুর বড় হুমকি ,নির্গমন কমাতে নতুন পথ খুঁজছে দক্ষিণ কোরিয়া!

বিশেষ প্রতিবেদন, মানুষের মতামত: গবাদি পশুর পরিপাকক্রিয়া থেকে নির্গত মিথেনকে এবার নতুন ব্যবসার সুযোগে বদলে দিতে চাইছে দক্ষিণ কোরিয়ার জলবায়ু-প্রযুক্তি সংস্থা ‘AENON’। সামুদ্রিক শৈবাল থেকে তৈরি বিশেষ খাদ্যসম্পূরকের মাধ্যমে গরুর মিথেন নির্গমন কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিপুল গবাদি পশুর দেশ ভারতেও এই প্রযুক্তি ঘিরে বড় বাজার তৈরি হতে পারে।
বিশ্বে প্রায় ১৫০ কোটি গবাদি পশু রয়েছে। খাদ্য হজমের সময় তাদের পাকস্থলীতে তৈরি হওয়া মিথেনের অধিকাংশই ঢেকুরের মাধ্যমে বাতাসে মেশে। ২০ বছরের সময়সীমায় মিথেন কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় প্রায় ৮০ গুণ বেশি তাপ ধরে রাখতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ডেনমার্ক ২০৩০ সাল থেকে গবাদি পশুসহ কৃষিক্ষেত্রের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের উপর কর কার্যকর করার পথে এগিয়েছে।
এই সমস্যার সমাধানে ‘SeaTrace SC-1’ নামে সামুদ্রিক শৈবালভিত্তিক খাদ্যসম্পূরক তৈরি করছে AENON। সংস্থার দাবি, পরীক্ষাগারে পরিচালিত প্রাথমিক গবেষণায় এটি মিথেন উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে। তবে জীবন্ত গরুর উপর এর পরীক্ষা এখনও বাকি এবং পণ্যটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসেনি।
খামারিদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্য খরচ। উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গরু-পিছু মাসিক খরচ প্রায় ৪০০ টাকার মধ্যে রাখা গেলে এটি প্রচলিত বিকল্পগুলির তুলনায় অনেকটাই সস্তা হতে পারে। মিথেন হিসেবে নষ্ট হওয়া খাদ্যশক্তি কমাতে পারলে গরুর খাদ্যদক্ষতা বাড়তে পারে। তার ইতিবাচক প্রভাব দুধ ও মাংস উৎপাদনেও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এসব ফলাফল জীবন্ত পশুর উপর পরীক্ষায় প্রমাণিত হওয়া প্রয়োজন।
ভারতের মতো বৃহৎ দুগ্ধ উৎপাদক দেশে এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ক্রেতা হতে পারে ডেয়ারি সমবায়, পশুখাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা এবং বড় দুগ্ধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। তবে বাণিজ্যিক প্রয়োগের আগে নিরাপত্তা, কার্যকারিতা, দাম এবং ভারতীয় জলবায়ুতে উপযোগিতা নিয়ে বিস্তৃত পরীক্ষা জরুরি।
জলবায়ুর সমস্যা সামলানোর পাশাপাশি খামারির আয় বাড়ানো গেলে, দক্ষিণ কোরিয়ার এই উদ্যোগ ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নতুন ব্যবসার দরজা খুলে দিতে পারে।
