যাদবপুরে সংঘর্ষের পর নতুন সমীকরণ, এবিভিপির বিরুদ্ধে এক ছাতায় বহু দল!

দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, মানুষের মতামত: এবিভিপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মেরুকরণে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর বাম (সিপিএম, সিপিআইএমএল লিবারেশন), অতিবাম, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও এসইউসি-র মতো বিপরীতমুখী রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে এবিভিপির বিরোধিতা করছে। এর ফলে জনমত অনেকাংশে এবিভিপির প্রতিকূলে গেছে।
বিগত ৬০ বছরের ইতিহাস ও রাজনৈতিক হিংসা: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ছয় দশকে যাদবপুরে অন্তত ২৫০টিরও বেশি সংঘর্ষ ও বিতর্কের ঘটনা ঘটেছে।
১৯৭০ সালে তৎকালীন উপাচার্য গোপাল সেনের হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসজুড়ে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ মূলত বাম ও অতিবাম শিবিরের হাতেই ছিল। জাতীয় রাজনীতি বা আন্তর্জাতিক স্তরে (যেমন চীন বা পাকিস্তান ইস্যুতে) নীতিগত বিরোধ থাকলেও, যাদবপুর ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী কোনো শক্তির উত্থান রুখতে তারা সবসময় একজোটে কাজ করেছে।
ছাত্রপরিষদের মতো অ-বাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে অতীতে ক্যাম্পাসে জায়গা না দেওয়ার জন্য একাধিকবার ভয়াবহ হিংসা ও সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিকভাবেই বাম ও অতিবাম সংগঠনগুলোর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যেখানে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার প্রবেশ ঠেকাতে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো বারবার এককাট্টা হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের জেরে এবিভিপির ওপর জনরোষ তৈরি হলেও, ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে এই ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক হিংসা ও অঘোষিত নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি বহু দশক ধরে চলে আসছে।
