NewsPublic Interest News

রমজান মাসে ফলমূলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বিধানসভায় বিধায়ক নওশাদের আবেদন রাজ‍্য সরকারকে 

নিজস্ব প্রতিবেদক,মানুষের মতামত:রমজান মাসকে কেন্দ্র করে ফলমূলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং কালোবাজারি রোধে উদ্যোগী হওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদের সিদ্দিকী। সোমবার বিধানসভার অধিবেশনে কৃষি ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্নার কাছে তিনি এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানান।

রমজান মাস ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র একটি সময়,যেখানে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখা হয়।ইফতারের সময় ফলমূলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়,কারণ দীর্ঘ সময় উপবাসের পর শরীরকে সতেজ করতে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে ফলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। কিন্তু এই সময়টাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফলের দাম বাড়িয়ে মুনাফা লাভের চেষ্টা করেন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই নওশাদ সিদ্দিকী রাজ্য সরকারের কাছে টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

রমজান মাসে ফলমূলের দাম বৃদ্ধির কারণ

প্রতি বছর রমজানের সময় ফলমূলের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে খেজুর,আপেল,কলা,আঙুর, তরমুজ,কমলালেবু,পেঁপে ও অন্যান্য মৌসুমি ফলের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তবে এই চাহিদার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা—

1. কৃত্রিম সংকট তৈরি করে: বড় ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে বেশি পরিমাণে ফল মজুত করেন এবং সরবরাহ কমিয়ে দেন, যাতে দাম বেড়ে যায়।

2. দাম বাড়িয়ে দেয়: চাহিদার কথা মাথায় রেখে পাইকারি বাজারে এবং খুচরো বিক্রেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়িয়ে দেন।

3. কালোবাজারি ও মজুতদারি বৃদ্ধি পায়: প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অনেক সময় অবৈধভাবে ফল মজুত করে রাখা হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।

নওশাদ সিদ্দিকীর দাবি ও সরকারের ভূমিকা

বিধানসভার অধিবেশনে নওশাদ সিদ্দিকী উল্লেখ করেন,রমজান শুরুর আগেই সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ফলমূলের বাড়তি দামের চাপে না পড়েন। তিনি টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে—

• পাইকারি ও খুচরো বাজারে নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়।

• ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে ফল মজুত করতে না পারেন।

• কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যারা দাম বাড়াচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

• সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে ফল পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

মন্ত্রী বেচারাম মান্না এই বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন যে,সরকার এই ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অতীত অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়

প্রতিবছর রমজান এলেই ফলের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ তৈরি হয়। গত কয়েক বছর ধরেই দেখা গেছে,বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।এর ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে ইফতারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ফল কেনা কঠিন হয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয়—

1.সরকারি বাজার তদারকি বাড়ানো উচিত: নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

2.ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু করা যেতে পারে: সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কিছু বাজারে কম দামে ফল বিক্রির ব্যবস্থা করা হলে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমতে পারে।

3.অনলাইন ফল ক্রয়-বিক্রয়ের উপর নজরদারি: বর্তমান সময়ে অনেক ব্যবসায়ী অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। তাই সরকারের নজরদারি বাড়ানো দরকার।

4. জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন: সাধারণ মানুষকে বোঝানো দরকার, যাতে তারা বাড়তি দাম দিয়ে ফল কেনার আগে যাচাই করেন এবং একসঙ্গে বেশি পরিমাণে ফল না কেনেন,যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়।

রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,বিশেষ করে ফলমূলের ক্ষেত্রে। নওশাদের দাবির গুরুত্ব রয়েছে,কারণ এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সরকার যদি সময়মতো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে,তাহলে কালোবাজারি ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব হবে। রমজান শুরুর আগেই টাস্কফোর্স গঠন করে বাজার মনিটরিং করলে সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে ফল কিনতে পারবেন এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

Share with

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *