সোমবার, সেপ্টেম্বর 14, 2026
00:50:12 | কলকাতা

নন্দীগ্রামে ভেস্তে গেল ‘জোটের অঙ্ক’! একা কংগ্রেস,সিপিএম নয়—সিপিআই মাঠে,তৃণমূলে প্রার্থী-সঙ্কট,বিজেপির বাজি কে?

জেলা ভিত্তিক সংবাদরাজনীতি

স্টাফ রিপোর্টার,মানুষের মতামত:পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে কংগ্রেস, আইএসএফ এবং বাম শিবিরের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতার জল্পনায় আপাতত জল ঢেলে দিল আলাদা আলাদা প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। তার আগেই রাজনৈতিক সমীকরণ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামে এককভাবে দলের স্থানীয় নেতা মিলন প্রধানকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আজই তাঁর মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা।

অন্যদিকে,নন্দীগ্রামে সিপিএম প্রার্থী দেওয়ার প্রাথমিক আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বদলেছে। সিপিএমের বদলে নন্দীগ্রামে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সিপিআই। শনিবার সিপিআইয়ের পক্ষ থেকে প্রার্থীপদের জন্য প্রয়োজনীয় ফর্ম A এবং ফর্ম B চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। অর্থাৎ নন্দীগ্রামে বামেদের হয়ে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সিপিআইয়ের নামই এখন সামনে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর। নিয়ম অনুযায়ী ওই দিন দুপুর ৩টের মধ্যে সিইও দপ্তরে ফর্ম A ও B জমা দিতে হবে। প্রার্থীর নাম ও স্বাক্ষর-সহ ২বি ফর্মও জমা দিতে হবে। তা না হলে স্বীকৃত প্রতীকে প্রার্থীপদ বাতিল হতে পারে। তবে রেজিনগর কেন্দ্রের ক্ষেত্রে শনিবার বিকেল পর্যন্ত বামেদের পক্ষ থেকে কোনও প্রার্থী সংক্রান্ত আবেদন পাঠানো হয়নি।

অন্যদিকে,নন্দীগ্রামে তৃণমূলের মমতা-পন্থী শিবিরও প্রবল প্রার্থী-সঙ্কটে রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা। দলের প্রথম সারির নেতা আবু তাহের প্রার্থী হতে সরাসরি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। কালীঘাটের তরফে তাঁকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে রাজি নন। আবু তাহেরের বক্তব্যেও উঠে এসেছে ক্ষোভের সুর। তাঁর দাবি, দলের সুসময়েও তাঁকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ভূমি উচ্ছেদ আন্দোলন থেকে শুরু করে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় থাকার পরও তিনি প্রাপ্য মর্যাদা পাননি।

অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী নিয়েও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একসময় স্থানীয় নেতা মেঘনাথ পালের নাম আলোচনায় থাকলেও এখন শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথের মাকে প্রার্থী করার বিষয়টি দলের অন্দরে বিবেচনায় রয়েছে বলে খবর। ফলে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের আগে একদিকে কংগ্রেসের একক লড়াই, অন্যদিকে সিপিএমের বদলে সিপিআইয়ের মাঠে নামা, তৃণমূলের প্রার্থী-সঙ্কট এবং বিজেপির সম্ভাব্য চমক—সব মিলিয়ে বদলে যাচ্ছে ভোটের অঙ্ক। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে, শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রামের লড়াই কোন সমীকরণে দাঁড়ায়।

Share with

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।