বুধবার, অক্টোবর 21, 2026
04:18:10 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

দুই শহর দখলের লড়াইয়ে বিজেপির নজর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে, কতটা প্রস্তুত সংগঠন?

কলকাতা ও হাওড়া পুরসভাকে সামনে রেখে সংগঠন বাড়ানো, জনসংযোগ এবং নাগরিক পরিষেবার প্রশ্নে তৎপর বিজেপি। ওয়ার্ডের সংখ্যা,স্থানীয় সমস্যা ও প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে পুরভোটে?

দীপঙ্কর মন্ডল,মানুষের মতামত:কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম দখলের লড়াইয়ে আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহরে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোই এখন পদ্মশিবিরের লক্ষ্য। কলকাতায় ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়ে ২০৯ এবং হাওড়া পুরসভায় ৬৮ হওয়ায় আসন্ন পুরভোটের অঙ্কও বদলেছে। এই পরিস্থিতিতে পুজোর মরসুমে জনসংযোগ থেকে শুরু করে স্থানীয় স্তরে সংগঠন বিস্তার—সব ক্ষেত্রেই সক্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে বিজেপি। অন্য দিকে, বিরোধী শিবিরের তৎপরতা কতটা ভোটের লড়াইয়ে প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা।

এ বারের দুর্গাপুজোয় কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির একাধিক শাখা সংগঠনের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। সাংগঠনিক কাঠামো এখনও সর্বত্র মজবুত না হলেও, পুজোকে কেন্দ্র করে জনসংযোগের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছে গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পুরভোটের আগে এই ধরনের কর্মসূচি স্থানীয় স্তরে দলের পরিচিতি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

অন্য দিকে,বামেদের তরফে বিভিন্ন জায়গায় বুক স্টল তৈরি করা হলেও, সেই কর্মসূচির রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের নেতাদের উপস্থিতি নিয়েও পুজোর সময় বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা হয়েছে। তবে পুজোর মণ্ডপে রাজনৈতিক দলের দৃশ্যমান উপস্থিতি থেকেই ভোটের ফল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

হাওড়ায় পরিষেবার প্রশ্নে বাড়তি গুরুত্ব

হাওড়া পুরসভাকে ঘিরে বিজেপির কৌশলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে নাগরিক পরিষেবার বিষয়টি। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় পুরসভার প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও পরিষেবা নিয়ে বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। গত প্রায় ১৩ বছর ধরে হাওড়ায় পুরভোট না হওয়ায় নিকাশি, রাস্তা, জঞ্জাল অপসারণ এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে সম্পত্তিকর সংক্রান্ত ওয়েভার স্কিম চালুর বিষয়টিকেও ভোটের আগে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বকেয়া সম্পত্তিকরের বোঝা কমানোর সুযোগ পেলে পুরবাসীদের একাংশের কাছে তা ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে। তবে এই ধরনের প্রকল্পের বাস্তব সুবিধা কতটা মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ কথা বলবে ভোটের ফল

কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটে বিজেপির সামনে যেমন সংগঠন বিস্তারের সুযোগ রয়েছে, তেমনই রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ। ওয়ার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি, স্থানীয় প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা এবং নাগরিক পরিষেবা নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা—সব কিছুর উপর নির্ভর করবে নির্বাচনী লড়াইয়ের গতিপ্রকৃতি।

পুজোর মরসুমে দৃশ্যমান উপস্থিতি এবং হাওড়ায় সম্পত্তিকর সংক্রান্ত উদ্যোগ বিজেপিকে কিছুটা রাজনৈতিক সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তবে সেই সুবিধা ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়, তার উত্তর মিলবে পুরভোটের ফলেই।

Share with

আরো পড়ুন -

নতুন সপ্তাহ,নতুন খবর - ‘মানুষের মতামত’

News paper

e-Paper পড়ুন