হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ। তেল আমদানি, পরিবহণ খরচ ও ভারতের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, মানুষের মতামত:মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব এবার আরও স্পষ্ট হচ্ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ায় তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে জাহাজের ভাড়া, পরিবহণ খরচ এবং শিল্পের উৎপাদন ব্যয়ের উপর। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তার চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পকেটেও পড়তে পারে।হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। এই পথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশের তেল ও গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছয়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে শুধু তেল উৎপাদক দেশ নয়, আমদানিনির্ভর দেশগুলিও সমস্যায় পড়ে।
২০ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্যাঙ্কার চলাচলে ঝুঁকি ও পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় এশিয়ার কয়েকটি শোধনাগার ছোট জাহাজ ব্যবহার এবং বিকল্পভাবে তেল কেনার কৌশল নিচ্ছে। আমেরিকা থেকে এশিয়ায় তেল পরিবহণের খরচও ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৪০ ডলারে পৌঁছেছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু তেলের দাম নয়, তেল পৌঁছে দেওয়ার খরচও এখন বড় চিন্তার বিষয়।ভারতের মতো বিপুল পরিমাণ তেল আমদানিকারী দেশের কাছে এই পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘদিন বেশি থাকলে আমদানি খরচ বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে পরিবহণ, শিল্প উৎপাদন এবং মুদ্রাস্ফীতির উপর। তবে পেট্রল, ডিজেল বা রান্নার গ্যাসের দাম কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক দাম, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং তেল সংস্থাগুলির খরচের উপর।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার অক্টোবরের রিপোর্টেও সতর্কতার ছবি উঠে এসেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস, ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের চাহিদা গড়ে দৈনিক ২৬ লক্ষ ব্যারেল কমতে পারে। বেশি দাম ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা এর অন্যতম কারণ।এখন নজর কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং হরমুজে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতির দিকে। সংঘাত কমলে জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে। কিন্তু অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতির উপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
