রাশিয়ার তেল নিয়ে মার্কিন অবস্থানের পরিবর্তনে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা,শুল্কনীতি ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে এর প্রভাব বিশ্লেষণ।
দেবাশীষ সেনগুপ্ত, মানুষের মতামত: রাশিয়ার তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে তৈরি হওয়া বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া-সংক্রান্ত নতুন আইনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের বিধান থেকে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে রাশিয়ার জ্বালানির উপর নির্ভরশীল ভারতের সামনে আপাতত কিছুটা স্বস্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রয়টার্সের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী,নতুন মার্কিন আইনে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ ছিল। বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক ভারত এই ব্যবস্থার কারণে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে পারত। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সেই আশঙ্কা আপাতত কিছুটা কমেছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আশাবাদ
মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, চুক্তির বিষয়ে দুই দেশ এখন কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত আলোচনার পরিবেশ উন্নত করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ কোথায়?
ভারতের জন্য রাশিয়ার তেল গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সস্তায় জ্বালানি সংগ্রহ দেশের অর্থনীতি ও পরিবহণ খরচের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। রাশিয়া থেকে আমদানি দ্রুত কমাতে হলে বিকল্প উৎস থেকে তেল কিনতে হতে পারে বেশি দামে। তাতে পেট্রল-ডিজেলের দাম, আমদানি খরচ এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে মার্কিন সিদ্ধান্তকে স্থায়ী সমাধান ভাবার কারণ নেই। বাণিজ্যচুক্তির শর্ত, ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক এবং আমেরিকার বাণিজ্য তদন্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার নীতি বদলালে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, রাশিয়ার তেল নিয়ে মার্কিন অবস্থানে সাময়িক নমনীয়তা ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত বাণিজ্যচুক্তির শর্ত এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখার কৌশলের উপর।
