যুদ্ধ,জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও খরার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা,২০২৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে খাদ্য সরবরাহের সংকট।
তাপস চক্রবর্তী,মানুষের মতামত:বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, যুদ্ধের কারণে পণ্য পরিবহণে বাধা এবং এল নিনোর প্রভাবে খরার আশঙ্কা—এই তিন কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্য সরবরাহের উপর চাপ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক মাসে খাদ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলার আশঙ্কাও রয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন এশিয়া,মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের সাধারণ মানুষ।জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো জানিয়েছেন, খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা বর্তমানে বড় চাপের মুখে। চলতি বছরের শেষ দিক থেকে আগামী বছরজুড়েও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।
খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারে পৌঁছনো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে জ্বালানির প্রয়োজন হয়। তেলের দাম বাড়লে কৃষিকাজ, সার উৎপাদন, পণ্য পরিবহণ ও সংরক্ষণের খরচও বেড়ে যায়। অন্যদিকে, যুদ্ধের কারণে বাণিজ্যপথে বাধা তৈরি হলে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ কমতে পারে। এল নিনোর প্রভাবে খরা দেখা দিলে ফসলের উৎপাদনেও ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যের দাম বাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ১৫০টি দেশের মধ্যে ২২ শতাংশ দেশে চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ১৪ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বরে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক গড়ে ১৩৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
আয়ের বড় অংশ যাঁদের খাবার কিনতেই খরচ হয়, তাঁদের কাছে এই মূল্যবৃদ্ধি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। খাদ্যের দাম বাড়লে সংসারের অন্য প্রয়োজনীয় খরচ কমাতে বাধ্য হতে পারেন বহু মানুষ। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কাও রয়েছে। আবার খাদ্য রফতানিকারী দেশগুলি রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ আরও কমতে পারে।বিশ্বের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল খাদ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দাম নিয়ন্ত্রণ করা।
