মঙ্গলবার, অক্টোবর 20, 2026
04:15:23 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

বড় ব্র্যান্ডের দাপটে পাড়ার দোকানের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

দুর্গাপুজোর বাজারে বিক্রি বাড়লেও ছোট ব্যবসায়ীদের প্রকৃত লাভ কতটা?দোকানভাড়া, কর্মীদের মজুরি, অবিক্রীত পণ্য,বকেয়া টাকা ও ঋণের চাপ নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয় প্রতিবেদন।

বিপ্লব চক্রবর্তী,মানুষের মতামত:দুর্গাপুজো মানেই নতুন জামাকাপড়, কেনাকাটা, উপহার আর বাজারে মানুষের ঢল। পুজোর আগে থেকেই কলকাতা ও জেলার বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের ভিড় জমে। দোকানে দোকানে বিক্রি বাড়ে, ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানেও চলে কেনাকাটা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, পুজোর মরসুমে ব্যবসায়ীদের রমরমা অবস্থা। কিন্তু বিক্রির এই ছবির আড়ালে অন্য একটি প্রশ্ন থেকে যায়—এত বিক্রির পর সত্যিই কতটা লাভের মুখ দেখলেন ছোট ব্যবসায়ীরা?

একজন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির অঙ্কই শেষ কথা নয়। মাল কেনার খরচ, দোকানভাড়া, কর্মীদের মজুরি, বিদ্যুৎ, পরিবহণ এবং অন্যান্য খরচ মেটানোর পর হাতে কত টাকা থাকছে, সেটাই আসল হিসাব। অনেক সময় বিক্রি ভালো হলেও খরচের বোঝা এতটাই বেশি থাকে যে প্রত্যাশামতো লাভ হয় না। তাই শুধু বাজারে ভিড় দেখে ব্যবসার সাফল্য বিচার করা ঠিক নয়।

বিশেষ করে ছোট দোকানদার ও ফুটপাতের বিক্রেতাদের পরিস্থিতি আলাদা করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। বড় ব্যবসায়ীদের মতো সব সময় তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত পুঁজি থাকে না। অনেকেই ধার করে বা ঋণ নিয়ে পুজোর আগে বেশি করে মাল তোলেন। তাঁদের আশা থাকে, উৎসবের মরসুমে ভালো বিক্রি হলে ঋণ শোধ হবে, সংসারের খরচ উঠবে এবং পরবর্তী ব্যবসার জন্য কিছু টাকা জমবে। কিন্তু বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কম হলে অথবা অনেক পণ্য অবিক্রীত থেকে গেলে সেই হিসাব ওলটপালট হয়ে যায়।

এর সঙ্গে রয়েছে বাকিতে বিক্রির সমস্যা। পণ্য বিক্রি হলেও টাকা সময়মতো হাতে না এলে নতুন করে মাল কেনা কিংবা দোকানের নিয়মিত খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। আবার পুজোর জন্য কেনা পোশাক বা অন্যান্য সামগ্রী অবিক্রীত থাকলে পরে সেগুলি কম দামে বিক্রি করতে হতে পারে। ফলে বিক্রির অঙ্ক বড় হলেও প্রকৃত লাভ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পুজোর পর পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। উৎসবের সময় যে বাড়তি ক্রেতা দেখা যায়, পরে সেই ভিড় অনেকটাই কমে যেতে পারে। অথচ দোকানভাড়া,কর্মীদের বেতন এবং অন্যান্য নিয়মিত খরচ বন্ধ হয় না। মরসুমি ব্যবসার উপর নির্ভরশীল বহু ছোট ব্যবসায়ীর কাছে তাই পুজোর পরের সময়টিও বড় চ্যালেঞ্জ।

এখানে ক্রেতাদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বড় শোরুম বা অনলাইন বিপণিতে কেনাকাটা নয়, স্থানীয় ছোট দোকান থেকেও প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা পাড়ার অর্থনীতিকে সচল রাখতে সাহায্য করে। ছোট ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানো মানে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও বহু পরিবারের জীবিকার পাশে দাঁড়ানো।

তবে ব্যবসার সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব শুধু ক্রেতাদের নয়। বাজারের পরিকাঠামো উন্নত করা, ব্যবসার পরিবেশ সহজ করা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির উদ্যোগ জরুরি।

পুজোর বাজারের সাফল্য শুধু কত টাকার কেনাবেচা হল, তা দিয়ে মাপা যায় না। দেখতে হবে, ব্যবসায়ীরা খরচ মিটিয়ে কতটা লাভ পেলেন, ঋণের বোঝা কমল কি না এবং আগামী মাসগুলিতে ব্যবসা চালানোর মতো আর্থিক শক্তি তাঁদের হাতে থাকল কি না। উৎসবের আলো নিভে যাওয়ার পর এই হিসাবই বলে দেবে, পুজোর বাজার সত্যিই কতটা সফল হয়েছিল।

কারণ,বিক্রির অঙ্ক বড় হলেই ব্যবসা লাভজনক হয় না। ছোট ব্যবসায়ীর মুখে স্বস্তির হাসি ফুটল কি না, সেটাই হওয়া উচিত পুজোর বাজারের সাফল্যের আসল মাপকাঠি।

Share with

আরো পড়ুন -

নতুন সপ্তাহ,নতুন খবর - ‘মানুষের মতামত’

News paper

e-Paper পড়ুন