একসময় দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণ ছিল শারদিয়া সাহিত্য। বদলে যাওয়া পাঠাভ্যাস ও নতুন প্রজন্মের আগ্রহের অভাব কি বাংলা শারদিয়া সংখ্যা ও প্রকাশনা শিল্পের পুরনো জৌলুস কমিয়ে দিচ্ছে?
দেবাশীষ সেনগুপ্ত, মানুষের মতামত:অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বাংলা সাহিত্যে ‘শারদিয়া সাহিত্য’ এক সোনালী অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। পূজার আগে বিভিন্ন দৈনিক ও সাময়িকী পত্রিকাগুলো জমজমাট শারদিয়া সংখ্যা প্রকাশ করত। আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর ‘দেশ’ এবং আনন্দবাজার পত্রিকা সহ সেকালে বহু শারদিয়া সংখ্যা প্রকাশের হিড়িক পড়ে যেত। এখনও কলকাতা থেকে ‘বর্তমান’, ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর মতো দৈনিকগুলো শারদিয়া সংখ্যা প্রকাশ করে চলেছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকাও এই ধারা বজায় রেখেছে।
তবে ঐতিহ্যবাহী এই সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বর্তমানে এক গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। আগে শারদিয়া সংখ্যা সংগ্রহ বা পড়ার জন্য পাঠকদের মধ্যে যে উন্মাদনা ও হুরোহুড়ি দেখা যেত, তার লেশমাত্র এখন আর চোখে পড়ে না। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের বা জেনজি এর শারদিয়া সাহিত্য পড়ার প্রতি আগ্রহ প্রায় নেই বললেই চলে।
ফলস্বরূপ, আগের দিনে শারদিয়া সাহিত্যকে কেন্দ্র করে যে বিশাল বাণিজ্যিক বাজার বা ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছিল, তাতে এখন বড়ো ধরনের ভাটা পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং অন্যান্য রাজ্যেও শারদিয়া সাহিত্যের কদর আগের মতো আর নেই। বিভিন্ন মিডিয়া গোষ্ঠীর প্রধানরাও একান্তে কবুল করছেন যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাঠক কমে যাওয়ায় শারদিয়ার সেই রমরমা আর অবশিষ্ট নেই।
