পশ্চিমবঙ্গের ১৯টি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করল স্কুল শিক্ষা দপ্তর। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে কার্যকর হবে এই নিয়োগ।
দেবাশীষ সেনগুপ্ত,মানুষের মতামত:প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় রদবদল। রাজ্যের ১৯টি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদে (ডিপিএসসি) নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করল স্কুল শিক্ষা দপ্তর। সোমবার জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়োগ। সংশ্লিষ্ট সংসদগুলির বর্তমান চেয়ারম্যান-ইন-চার্জদের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেবেন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানেরা। পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরাই দায়িত্ব সামলাবেন।
প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনে এই রদবদল ঘিরে ইতিমধ্যেই নজর পড়েছে শিক্ষা মহলের। জেলা স্তরে সংসদগুলির প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনা, সমন্বয় বাড়ানো এবং প্রাথমিক শিক্ষার পরিষেবা আরও সক্রিয় করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁদের নেতৃত্বে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।নতুন নিয়োগের তালিকায় কলকাতা জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান হয়েছেন উদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়ায় দায়িত্ব পেয়েছেন অসিত বেরা, হুগলিতে মধুসূদন বাগ, উত্তর ২৪ পরগনায় মোহন কুণ্ডু এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অমিত রায়চৌধুরী।
উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল-বিভিন্ন জেলাতেও এসেছে নতুন মুখ। আলিপুরদুয়ারে দিলীপ পাল, বাঁকুড়ায় বামনপদ বন্দ্যোপাধ্যায়, বীরভূমে সোমেশ্বর বোরাল, কোচবিহারে সাধন কুমার পাল, দক্ষিণ দিনাজপুরে দুর্গেশচন্দ্র দেবনাথ, জলপাইগুড়িতে ধীরাজ মোহন ঘোষ এবং ঝাড়গ্রামে অসীম কুমার পালকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে।এ ছাড়া নদিয়ায় বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, পশ্চিম বর্ধমানে কৌশিক সরকার এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ঠাকুরদাস অধিকারী নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বাকি জেলাগুলিতেও নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদগুলির কাজকর্মে কতটা গতি আসে, এখন সেদিকেই নজর শিক্ষা মহলের। শিক্ষক-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজ, শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয় এবং প্রাথমিক স্তরে পরিষেবার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন চেয়ারম্যানদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তবে রদবদলের প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে আগামী দিনে সংসদগুলির কাজের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই বলে মনে করছেন বিশেষঞ্জ মহল।
