ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে অভিযানের ডাক। আন্দোলন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনভোগান্তির অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।
দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, মানুষের মতামত:ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বিরাট ‘যন্তর মন্তর’ অভিযানের ডাক দিয়েছে তরুণদের সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন ককরোজ জনতা পার্টি। যুব সমাজ, শিক্ষার্থী ও বেশ কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থনে গড়ে ওঠা এই মেগা প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজধানী এখন কার্যত সেনা বা সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।আন্দোলনকারীদের জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে জমা হওয়া থেকে বিরত রাখতে এবং বিশাল জনসমাগম বানচাল করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (নিয়ন্ত্রাধীন দিল্লি পুলিশ) ও কেন্দ্র কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
শুক্রবার রাত থেকেই সেন্ট্রাল ও লুটিয়েন্স দিল্লির প্রায় ৫৭টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।কলকাতা (হাওড়া/শিয়ালদহ) সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দিল্লিতে প্রবেশকারী একাধিক দূরপাল্লার এবং লোকাল ট্রেন আগেভাগেই বাতিল করা হয়েছে। বিশেষ করে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিনমুখী ট্রেন চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ সংলগ্ন দিল্লি সীমান্তে ব্যারিকেড তৈরি করে প্রতিটি যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গণপরিবহন ও অ্যাপ-ট্যাক্সি চলাচলেও জারি করা হয়েছে বিশেষ কড়াকড়ি।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীনস্থ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নরেন্দ্র মোদী সরকার মূলত চারমুখী কৌশলে এই তরুণ-নির্ভর আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে:দিল্লি পুলিশ ও রাজ্য পুলিশগুলি যৌথ অভিযান চালিয়ে দেশের নানা প্রান্ত (যেমন পুণে, মুম্বই, ইউপি) থেকে আসা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সি জে পি নেতাদের আগেভাগেই আটক করছে। ইতিমধ্যেই হাজার হাজার প্রতিনিধিকে পথেই আটকে দেওয়া হয়েছে।
ইন্টারনেট সুবিধা, মেট্রো স্টেশন এবং ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার মূল লক্ষ্য হলো বিক্ষোভকারীদের শারীরিক সমন্বয় নষ্ট করা। সেন্ট্রাল দিল্লিতে দলবদ্ধভাবে পৌঁছানো অসম্ভব করে তোলা হচ্ছে যাতে যন্তর মন্তরে বড় কোনো স্থায়ী জমায়েত বা ধরনা না গড়ে ওঠে।দিল্লি পুলিশ স্পষ্টভাবে এই আন্দোলনের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছে। যন্তর মন্তর ও নির্বাচন কমিশন ভবনের আশপাশে ১৬৩ নম্বর ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করে একাধিক মানুষের একসঙ্গে চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনটিকে “আইনশৃঙ্খলার সমস্যা” এবং “জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির প্রচেষ্টা” হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে তরুণদের এই আন্দোলনকে “বামপন্থী বা বিরোধী রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত” বলে দাবি করা হলেও, বিক্ষোভকারীরা নিজেদের অহিংস আন্দোলনকারী হিসেবেই তুলে ধরছেন।সি জে পি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং অন্য সমন্বয়কারীরা কেন্দ্র সরকারের এই পদক্ষেপকে “ঘোষণা ছাড়া জরুরি অবস্থা” বলে তোপ দেগেছেন। তবে কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ট্রেন বাতিল এবং মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকার ফলে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকা সাধারণ যাত্রী ও কর্মজীবীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। মোদী-শাহ সরকারের কঠোর পুলিশি ব্যবস্থার বিপরীতে আন্দোলনকারীরা কীভাবে বিকল্প কৌশলে এগোয়,এখন সেটাই দেখার বিষয়।
