মাধবডিহিতে মৃত সন্দীপ বেজ ও টগর বেজের পরিবারের সঙ্গে দেখা শুভেন্দু অধিকারীর, হাইকোর্টে বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের আর্জি রাজ্যের
স্নেহাশিস মুখার্জি, মানুষের মতামত:পুজোর আনন্দের মধ্যেই চোরবাগান বিপর্যয়ে একাধিক পরিবারের জীবনে নেমে এসেছে শোকের অন্ধকার। প্রিয়জনকে হারানোর সেই ক্ষত যে কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়,তা স্বীকার করেই স্বজনহারা পরিবারগুলির পাশে থাকার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহিতে গিয়ে বিপর্যয়ে মৃত সন্দীপ বেজ ও টগর বেজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালনের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “আমি ওঁদের ফিরিয়ে দিতে পারব না,কিন্তু পরের দায়িত্বটা তো পালন করতে হবে?”তাঁর বক্তব্য,প্রশাসনের প্রধান হিসেবে স্বজনহারা পরিবারগুলির পাশে থাকা এবং তাঁদের প্রতি দায়িত্ব পালন করা সরকারের কর্তব্য। এই কঠিন সময়ে পরিবারগুলিকে একা ছেড়ে দেওয়া হবে না বলেও বার্তা দেন তিনি।
চোরবাগান বিপর্যয়ের তদন্তে বিচারবিভাগীয় কমিটি
চোরবাগানে কীভাবে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের মুখ্যসচিব কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে জানিয়েছেন। দ্রুত তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্যও আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী,প্রস্তাবিত তদন্ত কমিটিতে কলকাতা পুলিশ ও পুরসভাকে রাখা হয়নি।তবে তদন্তের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং কমিটির গঠন সম্পর্কে আদালতের নির্দেশই গুরুত্বপূর্ণ হবে।
‘ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই এগোতে হয়’
চোরবাগান বিপর্যয়ের মতো ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, তার জন্য শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যেকোনও ঘটনা থেকেই শিক্ষা নিয়েই এগোতে হয়।”
পুজোর সময়ে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় বহু পরিবারের উৎসবের আনন্দ ম্লান হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, উৎসবের আবহের মধ্যেও স্বজনহারা পরিবারগুলির চোখের জল উপেক্ষা করা যায় না। প্রশাসনের অংশ হিসেবে ওই পরিবারগুলিকে আত্মীয়ের মতো মনে করেন বলেও জানান তিনি। তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই এখন সরকারের অগ্রাধিকার বলে স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে বিপর্যয়ের কারণ বা দায়দায়িত্ব নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। প্রশাসনের প্রধান হিসেবে তদন্তের আওতাধীন বিষয় নিয়ে আগাম মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন শুভেন্দু।
চোরবাগান বিপর্যয়ের পর মৃতদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা—এই দুই বিষয়ই এখন রাজ্য প্রশাসনের সামনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিচারবিভাগীয় তদন্তের উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে।
