বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 15, 2026
03:47:07 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

বাংলার অর্থনীতি চাঙ্গা করতে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে জোর, ঋণের বোঝা নিয়ে কী বললেন অর্থমন্ত্রী?

জয় চক্রবর্তী:রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদল ঘটেছে। ‌ভারতীয় জনতা পার্টি প্রথম বার বঙ্গের সিংহাসন দখল করেছে। আর্থিক অবস্থা ফিরবে কিভাবে? মসনদে বসে কিভাবে আর্থিক উন্নয়নের বার্তা দিতে পারবেন,সে বিষয় নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রেখেছেন নয়া অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

মানুষের মতামত: আপনি যখন অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন, সেই সময় রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন?

অর্থমন্ত্রী: ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে প্রয়োজন অনুসারে ঋণ নেয়। এটা নিয়ম অনুসারেই রাজ্যগুলো পায়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ঋণের বোঝা অনেকটা বেশি। কারণ বিগত ১৫ বছর তৃণমূল সরকার রাজ্যের আয় কম ব্যয় বেশি নীতিতে চলেছে। এর আগে বাম সরকার অনেকটা ঋণ নিয়ে রেখেছিল। রাজ্যের অর্থনৈতিক কফিনে পেরেক পুঁতেছে তৃণমূল সরকার। ঋণের বোঝা একটা ভাবার কারণ বটেই। কিন্তু সেটাই একমাত্র নয়। ‌ অর্থনৈতিকভাবে এই রাজ্য পঙ্গু অবস্থায়। পূর্বতন তৃণমূল সরকার খেলা মেলাতেই ব্যস্ত ছিল। জিএসটির টাকা পেয়েছে। রাজ্যে নিজস্ব আয় হয়েছে। ‌ কিন্তু সবটাই খরচের পরিমাণ আয় থেকে অনেকটাই বেশি। ‌ যার ফলে বঙ্গ অর্থনীতি তলানিতে ঠেকেছে। এমন অবস্থায় ভারতীয় জনতা পার্টি মানুষের বিপুল সমর্থন পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আমাদের রাজ্য সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে আর্থিক পরিস্থিতি উন্নতি করার সব রকমের প্রচেষ্টা আমরা সরকার থেকে করছি। তবে সরকারের সবেমাত্র পাঁচ মাস হয়েছে। সময় অবশ্যই দিতে হবে। ‌ সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। ‌ এবং আগামী সময় পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে, এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

মানুষের মতামত : তৃণমূল সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্প গুলো এই রাজ্যে চালু করেনি। সেই ধরনের প্রকল্প নিজেরাই করেছে। এতে তো আর্থিক চাপও বেড়েছে…

অর্থমন্ত্রী: অবশ্যই। সব থেকে বড় ব্যাপার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুধুমাত্র ভারতীয় জনতা পার্টি যেসব রাজ্যে রয়েছে শুধু সেখানকার উন্নয়নের জন্য প্রকল্প করেননি। গোটা দেশের জন্যই করেছেন। ‌ কিন্তু আগের সরকার (তৃণমূল) সেগুলো গ্রহণ করতে নারাজ ছিল। আবাস থেকে আয়ুষ্মান ভারত সবটাই এই রাজ্যে ‘নিষিদ্ধ’ ছিল। এটা কি ভারতবর্ষের বাইরে? পশ্চিমবঙ্গ তো ভারতবর্ষের সবথেকে দামি রাজ্য। রাজ্যের মানুষদের কেন্দ্রীয় প্রকল্পের এত সুযোগ সুবিধা আগের সরকার পেতে দেয়নি। উল্টে সেই ধরনের প্রকল্প নিজেরাই করে সামলাতে পারছিল না। ফলে অতিরিক্তভাবে আর্থিক বোঝা চেপে বসেছিল। এবং পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন না।

মানুষের মতামত:এখন তো সমস্যা নেই…

অর্থমন্ত্রী: একদম সমস্যা নেই। ‌ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। সাধারণ মানুষ বারবার বলছে, এগুলো আমরা এতদিন পাইনি। আগের সরকার মানুষকে এই ধরনের প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে। কিন্তু আমি বলব আর চিন্তা নেই, কেন্দ্রীয় বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করে দিয়েছেন। আগামী সময় অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে এটা একটা বড় বিষয়।

মানুষের মতামত: এমন অবস্থায় উন্নয়নমূলক কাজ কতটা এগোবে?

অর্থমন্ত্রী: এই প্রশ্ন এখন আর মানুষের মনে উঠবে না। আপনারা সবাই দেখছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া সপ্তাহে রাজ্যের উন্নয়নের জন্য কিভাবে খাটছেন। ইতিমধ্যেই রাস্তা থেকে শুরু করে পর্যটন সহ বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়ন শুরু হয়ে গিয়েছে। ‌ এতদিন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের কাছে নতুন চাকরির কথাই শোনা যেত না। ‌ কিন্তু আমাদের সরকার আসার পর নতুন চাকরির পথ খুলছে। ‌ ইতিমধ্যেই আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু ক্ষেত্রে নতুন চাকরির পথ খোলার কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন।

মানুষের মতামত: অর্থনৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রে শিল্প তো একটা বড় বিষয়…

অর্থমন্ত্রী: অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ‌ আমরা চপ-মুড়ি ব্যবসায়ের কথা বলবো না। ‌ যারা চপ মুড়ি বিক্রি করেন তারাও ভাবেন তাদের পরবর্তী জেনারেশন বড় চাকরি পাবে। ‌ আর সেটা আমাদের মনে রাখতে হচ্ছে। ‌ তাই শিল্প প্রয়োজন। গাড়ি তৈরির কারখানা কে বন্ধ করে দেওয়া নয় তাকে নতুন করে বঙ্গের বুকে আনাটাই আমাদের কাছে প্রধান লক্ষ্য। ‌ ইন্সেন্টিভ দেওয়া থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারীদের কাছে বিনিয়োগের জন্য যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেদিকটা রাজ্য সরকার দেখতে শুরু করে দিয়েছে। ‌ ইতিমধ্যেই আপনারা দেখেছেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাবড় তাবড় শিল্পপতিরা এসে কথা বলেছেন। ইতিমধ্যে কয়েকটি শিল্প ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য শিলান্ন্যাস হয়ে গিয়েছে। আম্বানি সাহেবের সঙ্গে মুম্বাইতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেখা করে এসেছেন। হবে আগামী সময়ে শিল্পের অবশ্যই জোয়ার পশ্চিমবঙ্গে বইবে এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। খুব সহজ কথায় বলি, অর্থ কিভাবে আসবে। সংসার চালাতেও অর্থের প্রয়োজন হয়। রাজ্য চালাতেও অর্থের প্রয়োজন হয়। যত বেশি ব্যবসা-বাণিজ্য হবে ততই সাধারণ মানুষের কাছে চাকরির বাজার খুলবে এবং অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়ন হবে।

মানুষের মতামত:একটা কথা শোনা যায় ‘এম ও ইউ ইনভেসমেন্ট’…

অর্থমন্ত্রী: মৌ চুক্তি বা ‘এমও ইউ’ হবে আর তারপর সেটা বাস্তবে কিছুই হবে না, তেমন বিনিয়োগের বিষয় নিয়ে আমরা ভাবছি না। বাস্তবে যে বিনিয়োগ মানুষের কাজে লাগবে তা নিয়েই আমাদের প্রধান ভাবনা চিন্তা। ‌ টাটার মত গোষ্ঠী এখানে গাড়ি তৈরীর কারখানা না করে চলে গেল। পূর্ব সরকার মানে তৃণমূল সরকার যেভাবে সিন্ডিকেট রাজ তৈরি করেছিল তাতে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে ছিল। আমাদের ভারতীয় জনতা পার্টির সরকারের এইসব চলবে না। ‌ মানুষের জন্য কাপ চাই। ‌ মানুষের জন্য শিল্প চাই। আমরা এভাবেই এগোচ্ছি। ‌

মানুষের মতামত: কিন্তু ভাতা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আপনারাও পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

অর্থমন্ত্রী: যাদের প্রয়োজন তাদের ভাতা দেওয়াটা রাজ্য সরকারের কর্তব্য এবং দায়িত্ব। ‌ একজন পুরুষ অথবা মহিলা ভালোভাবেই ইনকাম করছেন কিন্তু সরকারি ভাতা ও পাচ্ছেন। এইটা ঠিক নয়। আমাদের সরকারের সময় ভাতা কিন্তু অন্যভাবেই দেওয়া হচ্ছে। যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয় তাদের ক্ষেত্রে ভাতা প্রয়োজন। সিস্টেমের বদল আনা হয়েছে।‌ ভাতাটা অধিকার, এই কালচার থেকে কিছুটা সরতে হবে।

মানুষের মতামত: রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নতি আমরা কবে থেকে দেখতে পাবো?

অর্থমন্ত্রী: আমাদের সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। এর মধ্যেই আমাদের বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ‌ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নয়া সরকার শিল্প ক্ষেত্রে, চাকরি ক্ষেত্রে একটা বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‌ আগামী সময় বিষয়গুলোকে সামনে রেখে অর্থনৈতিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ নিজের পায়ে আবার দাঁড়াবে। একসময় পশ্চিমবঙ্গ ‘বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী’ ছিল। সেই যুগ ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা বদ্ধপরিকর।

Share with

আরো পড়ুন -

নতুন সপ্তাহ,নতুন খবর - ‘মানুষের মতামত’

News paper

e-Paper পড়ুন