বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার নিন্দা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিজেপি-বিরোধী রাজনীতিতে তৃণমূল ও বামেদের মধ্যে নতুন যোগাযোগের সম্ভাবনা ঘিরে জল্পনা।
সার্থক দাশগুপ্ত,মানুষের মতামত:পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ও বামেদের বিরোধ দীর্ঘদিনের। একসময় এই দুই দলের লড়াই ছিল রাজ্যের রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে সরব হয়েছেন সিপিআইএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সেই বিকাশের সঙ্গে এবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক যোগাযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ সামনে আসার পর তার নিন্দা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক ও আদর্শগত মতপার্থক্য থাকলেও আইনজীবীদের নিরাপত্তা এবং সংবিধান রক্ষার প্রশ্নে ঐক্যের প্রয়োজন বলে বার্তা দেন তিনি। মমতার এই অবস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে দুই দলের রাজনৈতিক সমঝোতা বলে দেখার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।এরই মধ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বাতিলের দাবিতে কলকাতার একটি সভায় একই মঞ্চে দেখা যায় বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এবং কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ বসুকে। ফলে নির্দিষ্ট কিছু ইস্যুতে বিরোধী দলগুলির একসঙ্গে সরব হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে চর্চা বাড়ছে। তবে একই মঞ্চে উপস্থিত হওয়া মানেই নির্বাচনী জোট নয়।বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রশ্নও এখন গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় স্তরে বিরোধী দলগুলির যৌথ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চললেও বাংলায় তৃণমূল ও বামেদের মধ্যে অবিশ্বাসের জায়গা এখনও যথেষ্ট গভীর। সিপিআইএমের রাজ্য নেতৃত্বও তৃণমূলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য কি তৃণমূল ও বামেদের মধ্যে যোগাযোগের কোনও সেতু হয়ে উঠতে পারেন? এখনও পর্যন্ত তাঁকে আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার মতো তথ্য নেই। বরং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি দেখাচ্ছে, রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেও কিছু বিষয়ে একসঙ্গে কথা বলার জায়গা তৈরি হতে পারে।শেষ পর্যন্ত এই যোগাযোগ কি শুধু নির্দিষ্ট ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের পথ খুলবে—তার উত্তর দেবে আগামী দিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ।
