মঙ্গলবার, অক্টোবর 13, 2026
14:33:28 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

কেন্দ্রের ভরসা কমিয়ে নিজের পায়ে বাংলা? অর্থনীতির নতুন পরীক্ষায় শুভেন্দু সরকার

পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নজর।শুভেন্দু সরকারের সামনে আর্থিক স্বনির্ভরতার কী কী চ্যালেঞ্জ?

জয় চক্রবর্তী,মানুষের মতামত:রাজ্যের হাতে টাকা আসবে কোথা থেকে,শিল্পে বিনিয়োগ বাড়বে কীভাবে,আর বাংলার ছেলেমেয়েদের কাজের সুযোগ তৈরি হবে কী করে?শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের সামনে এখন এই প্রশ্নগুলিই বড় হয়ে উঠছে। রাজ্যের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে নিজের আয় বাড়ানো এবং নতুন শিল্প আনার লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গেলে শুধু ঘোষণা নয়,বাস্তবে কাজ করে দেখাতে হবে সরকারকে।

২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে রাজ্যের মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৪.৩৯ লক্ষ কোটি টাকা।বাজেট বিশ্লেষণ অনুযায়ী,এই অর্থবর্ষে রাজ্যের নিজস্ব কর থেকে ১.৩০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি আয়ের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।আগের অর্থবর্ষের সংশোধিত হিসাবের তুলনায় এই লক্ষ্য প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি।অর্থাৎ, রাজ্যের কোষাগারে নিজের আয় বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে ছবির অন্য দিকটিও রয়েছে।বাজেটের হিসাব বলছে, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যের মোট রাজস্ব প্রাপ্তির প্রায় ৪৩ শতাংশ আসতে পারে নিজস্ব উৎস থেকে। বাকি ৫৭ শতাংশের জন্য কেন্দ্রীয় করের ভাগ ও অনুদানের উপর নির্ভর করতে হবে। ফলে কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই রাজ্য চলবে, এমন পরিস্থিতি এখনই তৈরি হচ্ছে না।

নিজস্ব আয় বাড়াতে হলে রাজ্যে ব্যবসা ও শিল্পের পরিসর বাড়ানো জরুরি। নতুন কারখানা তৈরি হলে উৎপাদন বাড়বে, কাজের সুযোগ তৈরি হবে এবং সরকারের কর আদায়ও বাড়তে পারে। কিন্তু শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক বা বিনিয়োগের ঘোষণা করলেই সেই লক্ষ্য পূরণ হয় না। প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে কি না, কত টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে এবং কতজন কাজ পাচ্ছেন, তার হিসাবও সামনে আসা দরকার।ছোট ও মাঝারি শিল্পের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বাংলার বিভিন্ন জেলার ব্যবসা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, হস্তশিল্প এবং কৃষিনির্ভর উদ্যোগে নতুন সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় অর্থনীতিও লাভবান হতে পারে। এর পাশাপাশি যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শিল্পের উপযোগী করে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।

রাজ্যের আর্থিক চাপও কম নয়। একই বাজেটে ৬২,৪২১ কোটি টাকার আর্থিক ঘাটতির হিসাব রাখা হয়েছে। এই ঘাটতি মেটাতে ঋণের প্রয়োজন হয়। তাই উন্নয়নের খরচ বাড়ানোর পাশাপাশি ঋণ ও সুদের বোঝা সামলানোও সরকারের কাছে বড় কাজ। শেষ পর্যন্ত বাংলার অর্থনীতির উন্নতি কতটা হল, তা বোঝা যাবে কয়েকটি সহজ হিসাবেই—রাজ্যের নিজের আয় কতটা বাড়ল, নতুন শিল্প কতগুলি চালু হল, কতজন কাজ পেলেন এবং মানুষের আয় কতটা বাড়ল। এই ক্ষেত্রগুলিতে বাস্তব অগ্রগতি দেখাতে পারলেই অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্য কতটা এগোল, তা স্পষ্ট হবে।

Share with

আরো পড়ুন -

নতুন সপ্তাহ,নতুন খবর - ‘মানুষের মতামত’

News paper

e-Paper পড়ুন