মঙ্গলবার, অক্টোবর 13, 2026
11:42:38 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

৫ হাজার জলাশয় ভরাটের অভিযোগ! কাঠগড়ায় কে,জবাবদিহি করবে কারা?

কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৫ হাজার জলাশয় ভরাটের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক। পুরসভার নথি, জমির রেকর্ড ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

তাপস চক্রবর্তী,মানুষের মতামত:শহর বাড়ছে, বহুতল উঠছে, বদলে যাচ্ছে কলকাতার আশপাশের চেনা ভূগোল। কিন্তু এই উন্নয়নের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে কি একের পর এক পুকুর ও জলাশয়? সোমবার, ১২ অক্টোবর, কলকাতার টালিগঞ্জের একটি পুরসভা-আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর করা অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার জলাশয় বুজিয়ে ফেলা হয়েছে। এই অভিযোগের সঙ্গে তিনি তৃণমূলের কয়েক জন প্রাক্তন কাউন্সিলরের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। তবে এই সংখ্যা ও দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। <u>প্রশ্ন উঠছে, এত জলাশয় হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগের পক্ষে প্রশাসনের হাতে কী নথি রয়েছে?

জোকা,হরিদেবপুর থেকে বারাসত ও মধ্যমগ্রাম—কলকাতা মহানগর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশে দ্রুত নগরায়ণ হয়েছে। সেখানে জলাশয় ভরাটের অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, পরিবেশেরও গুরুতর বিষয়।জলাশয় বৃষ্টির জল ধরে রাখতে, ভূগর্ভস্থ জলের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং জল জমার সমস্যা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে পুকুর হারিয়ে গেলে তার প্রভাব পড়তে পারে এলাকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনেও।

কলকাতা পুরসভার ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেট নথিতে ৮,০৪০টি জলাশয়ের ভূ-অবস্থান চিহ্নিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই নথিতে জলাশয় ভরাট রুখতে ৮৭০টি পুলিশি অভিযোগ দায়েরের তথ্যও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই পরিসংখ্যান মুখ্যমন্ত্রীর উল্লেখ করা পাঁচ হাজার জলাশয় হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে সরাসরি প্রমাণ করে না। <u>প্রয়োজন জলাশয়ভিত্তিক তালিকা, পুরনো ও বর্তমান মানচিত্রের তুলনা এবং জমির রেকর্ডের নিরপেক্ষ পরীক্ষা।</u>রাজনৈতিক দোষারোপের বাইরে এখন সবচেয়ে জরুরি হল সত্য উদ্ঘাটন। কোন জলাশয় কবে হারিয়েছে, কোথায় বেআইনি নির্মাণ হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে—তার স্বচ্ছ হিসাব কি প্রকাশ করবে প্রশাসন? কারণ, জলাশয় রক্ষা শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়,আগামী প্রজন্মের পরিবেশ ও নাগরিক সুরক্ষার প্রশ্ন।

Share with

আরো পড়ুন -

নতুন সপ্তাহ,নতুন খবর - ‘মানুষের মতামত’

News paper

e-Paper পড়ুন