নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের ফল নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ নিয়ে বক্তব্যের পাশাপাশি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট সংশোধন বা মুছে ফেলার বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমার কথা জানান তিনি।
তাপস চক্রবর্তী,মানুষের মতামত:উপ-নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিজেপির জয়ের পর আগামী দিনের রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, দুই কেন্দ্রেই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সমর্থন পেয়েছে বিজেপি। আগামী পাঁচ বছরে পশ্চিমবঙ্গকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নন্দীগ্রামে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে জয় পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। অন্যদিকে, রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার সব শ্রেণির মানুষের সমর্থন পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের সমর্থনও এই জয়ের অন্যতম কারণ। আগামী দিনে কলকাতা ও হাওড়া-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বড় জয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে বিজেপি বলেও জানান তিনি।নির্বাচনে হিংসা ও প্রাণহানির ঘটনা না ঘটার বিষয়টি উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সরকারের অগ্রাধিকার। বিরোধীদের ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।
এদিকে, আইনজীবী তথা সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনায় কড়া অবস্থান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী বাপ্পা গুছাইতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিকাশরঞ্জনের একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে ব্যবহৃত ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দের ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পোস্টটি সংশোধন বা মুছে না দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, কোনও অবস্থাতেই আইনবিরুদ্ধ কাজ বরদাস্ত করা হবে না।রাজনৈতিক মহলের নজর এখন আগামী পুরসভা নির্বাচন এবং এই দুই কেন্দ্রের ফলাফলের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে।
