রবিবার, সেপ্টেম্বর 20, 2026
14:11:37 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

কমিশনের সিদ্ধান্তের পর বদলে গেল সমীকরণ! মমতার পাশে এবার কারা?

kolkataরাজনীতি

তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর নতুন সমীকরণ। মমতা শিবিরের নতুন নাম ও প্রতীক ঘিরে নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা।

দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, মানুষের মতামত:ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে রাজনৈতিক দলের ভাঙ্গন এবং নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে টানাটানি অত্যন্ত পুরনো একটি অধ্যায়। মতাদর্শগত ফারাক বা ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণে দলগুলো যখন বিভক্ত হয়,তখন তাদের মূল পরিচয় হয়ে ওঠে দলীয় প্রতীক। এই ধরনের জটিলতার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ভারতের নির্বাচন কমিশন।পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলি এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মধ্যবর্তী সিদ্ধান্তের ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং সাংগঠনিক ভাঙ্গনের জেরে নির্বাচন কমিশন দলের মূল নাম ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। আগামী উপ-নির্বাচনের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং দলীয় প্রতীক হিসেবে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রদান করা হয়েছে।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় কংগ্রেস প্রার্থীর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন এবং নিজের দলের প্রার্থী সরিয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে রেজিনগরে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে কংগ্রেস-তৃণমূল সমীকরণের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এককভাবে সাংগঠনিক সংকট সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রধান শরিক কংগ্রেস ও গান্ধী পরিবারের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন মমতার জন্য রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান উপায় হয়ে উঠেছে।পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও বিদ্রোহী শিবিরের রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে জাতীয় কংগ্রেসের সমর্থন ও সহযোগিতা রাজ্য স্তরে নতুন শক্তি জোগাতে পারে।এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের সাময়িক নির্দেশের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালানোর পাশাপাশি, জাতীয় রাজনীতিতে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধিই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান কৌশলগত দিক।

Share with