হুইপ অমান্য শাসক বিধায়কদের,বিষয়টিকে শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির কাছে পাঠালো পরিষদীয় দল
নিজস্ব প্রতিবেদক,মানুষের মতামত:বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শেষ দু’দিনে অনুপস্থিত থাকা বিধায়ক ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পথে এগোচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় হুইপ উপেক্ষা করায় ইতিমধ্যেই বিধায়কদের তালিকা প্রস্তুত করছে তৃণমূল কংগ্রেস পরিষদীয় দল। সোমবার রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, হুইপ অমান্য করে যে সমস্ত বিধায়ক ও মন্ত্রীরা ১৯ ও ২০ মার্চ অনুপস্থিত ছিলেন, তাঁদের কারণ দর্শানোর জন্য ডাকা হবে। তবে সরাসরি পরিষদীয় দল কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনা। আর সে কারণেই বিষয়টি শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিধানসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৯ মার্চ মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের সময় ২১৫ জন তৃণমূল বিধায়ক উপস্থিত থাকলেও ২০ মার্চ সেই সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ৯০-এ। এমনকি, গুরুত্বপূর্ণ অর্থবিল পাসের দিনও দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করেন অনেকে। এই অনুপস্থিতির ফলে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় হুইপ লঙ্ঘনের ঘটনায় পরিষদীয় দলের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের জবাবদিহি করতে হবে।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘‘এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তিন লাইনের হুইপ অমান্য করা দলবিরোধী কাজ। অনুপস্থিত বিধায়কদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠকে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’’ আগামী ২৯ মার্চ শৃংখলা রক্ষা কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানে অনুপস্থিত বিধায়কদের উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, শুধুমাত্র বিধায়ক নন, কয়েকজন মন্ত্রীও শেষ দু’দিন অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁদেরও হাজিরা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরে। কমিটির সদস্যরা তাঁদের যুক্তি শুনবেন, তারপরই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘‘এখনই কিছু বলা যাবে না। তবে সঠিক সময়েই দলীয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।’’
প্রসঙ্গত, সংসদ ও বিধানসভায় দলের বিধায়কদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হুইপ জারির প্রথা রয়েছে। দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করলে সাধারণত কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হয়। তৃণমূলের ক্ষেত্রে এবারের বিধায়কদের অনুপস্থিতি নজিরবিহীন। এই বিষয়ে কড়া বার্তা দিতেই শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কাছে বিষয়টি পাঠানো হচ্ছে বলে খবর।