‘মা ক্যান্টিন’-এ এখনো পর্যন্ত ৭ কোটি 29 লক্ষ মানুষ খাবার খেয়েছেন:ফিরহাদ
জিৎ দত্ত,মানুষের মতামত:নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম “মা ক্যান্টিন”। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল কম খরচে সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা। বর্তমানে রাজ্যের ৩৩টি জেলা হাসপাতাল, পুরসভা ও কর্পোরেশন এলাকায় এই প্রকল্প চলছে।
কলকাতা পুরসভা ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বিধানসভায় জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি ২৯ লক্ষ মানুষ মা ক্যান্টিন থেকে খাবার গ্রহণ করেছেন। প্রতি মাসে প্রায় ২১ লক্ষের বেশি মানুষ এই পরিষেবা নেন। এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ১২৮-১২৯ কোটি টাকা খরচ করেছে।
প্রথমে মাত্র ৩২টি ক্যান্টিন নিয়ে এই প্রকল্প শুরু হলেও ২০২২ সালে সেটির সংখ্যা বেড়ে হয় ২১২টি। বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নতুন ক্যান্টিন তৈরি করা হচ্ছে, যাতে আরও বেশি মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন।
জনপ্রিয়তা বনাম বাস্তবতা: বাড়ছে খরচের বোঝা?
প্রকল্পটি জনপ্রিয় হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে খরচ বৃদ্ধির কারণে প্রশাসনের মাথাব্যথা বাড়ছে। শাকসবজি, চাল, ডাল ও ডিমের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্প চালানো ক্রমশ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। কলকাতা পুরসভার একাংশের সন্দেহ, কিছু ক্যান্টিনে হিসাবের গড়মিল থাকতে পারে।
এ কারণেই কলকাতা পুরসভা নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিদিন কতজন মানুষ খাবার গ্রহণ করছেন এবং কত প্লেট খাবার পরিবেশন হচ্ছে, তা পরদিন দুপুর ১২টার মধ্যে পুরসভা পোর্টালে আপলোড করতে হবে।
এছাড়া, অফিস যাত্রীদের একটি বড় অংশও এখন এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন, ফলে প্রকল্পটির প্রাথমিক লক্ষ্য, যা ছিল প্রান্তিক মানুষদের জন্য সস্তায় পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, সেটি কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রথম থেকেই মা ক্যান্টিন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলেছে। রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় এই প্রকল্পের খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যা নিয়ে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়।
তবে প্রকল্পের জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছে যে, রাজ্য সরকার এটি অব্যাহত রাখতে এবং আরও সম্প্রসারণ করতে চায়। তবে খরচের দিকটি সামলাতে অডিটিং প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হবে বলে জানা গেছে।
এই মুহূর্তে মা ক্যান্টিন শুধু মাত্র নামমাত্র মূল্যে খাবার দেওয়ার প্রকল্প নয়, এটি রাজ্যের অন্যতম গেম-চেঞ্জার প্রকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে, প্রশাসনিক ও আর্থিক দিক সামলানোই এখন রাজ্য সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।