NewsSocial Welfare News

স্বাস্থ্য বীমার প্রিমিয়াম বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষের সংকট অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক,মানুষের মতামত:বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য বীমা সাধারণ মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে স্বাস্থ্য বীমার প্রিমিয়াম অত্যধিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু মানুষ অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। জিএসটি কমানোর পরেও বীমার খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি, যা আরও বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রিমিয়াম বৃদ্ধির প্রভাব

স্বাস্থ্য বীমার প্রিমিয়াম বৃদ্ধি শুধুমাত্র শহরের মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষকেই নয়, গ্রামীণ মানুষের উপরও প্রভাব ফেলেছে। স্বাস্থ্য বীমা সাধারণ মানুষের জন্য সুরক্ষা বলয়ের মতো কাজ করে, বিশেষত বড় চিকিৎসা খরচ মোকাবিলা করার সময়। কিন্তু প্রিমিয়ামের এই বৃদ্ধি অনেক পরিবারকে বাধ্য করছে তাদের স্বাস্থ্য বীমার কভারেজ কমাতে বা সম্পূর্ণভাবে বীমা থেকে সরে আসতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে প্রিমিয়ামের হার প্রায় ২০-৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি, স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচ বৃদ্ধি এবং বীমা সংস্থাগুলোর মুনাফা বৃদ্ধির চেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্র ও রাজ্যের ভূমিকা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে জনগণের অসুবিধার কথা উল্লেখ করেন। তিনি স্বাস্থ্য বীমার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। চিঠিতে তিনি জিএসটি হ্রাস করা এবং বীমা প্রিমিয়ামের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য স্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানান।এরপর কেন্দ্রীয় সরকার স্বাস্থ্য বীমার উপর জিএসটি ১৮% থেকে কমিয়ে ১২% করেছে। যদিও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল, তা সত্ত্বেও বীমার প্রিমিয়ামের অভ্যন্তরীণ খরচ কমানো যায়নি। ফলে সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ কমেনি।

কারণ ও সমাধানের অভাব

বীমা সংস্থাগুলির দাবি, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য খাতের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। চিকিৎসা পরিষেবার খরচ বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বীমা দাবির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া—এই সবই প্রিমিয়ামের বৃদ্ধির কারণ। তবে এই যুক্তি সাধারণ মানুষের দিক থেকে খুবই অগ্রহণযোগ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি এই খাতে শক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে এবং বীমা সংস্থাগুলিকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে মুনাফা অর্জনে বাধ্য করে, তবে প্রিমিয়ামের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। পাশাপাশি, সরকারি উদ্যোগে একটি বিশেষ স্বাস্থ্য বীমা কৌশল প্রবর্তন করার দাবিও উঠেছে।

জনগণের প্রতিক্রিয়া

স্বাস্থ্য বীমার প্রিমিয়াম বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বীমা না থাকা মানে একটি চিকিৎসা সংকটে পড়লে আর্থিক দিক থেকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত হওয়া। অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে অল্প কভারেজের পরিকল্পনা বেছে নিচ্ছেন, যা শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে অক্ষম। স্বাস্থ্য বীমার প্রিমিয়ামের বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠির পর কেন্দ্রীয় সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলেও, তা যথেষ্ট নয়। প্রিমিয়াম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারগুলিকে যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে এবং স্বাস্থ্য বীমার খরচ এমন পর্যায়ে রাখতে হবে যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে।

Share with