NewsPolitics

তৃণমূলের অন্দরে শুট আউট ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব: চিন্তায় শাসক দল

নিজস্ব প্রতিবেদক,মানুষের মতামত: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও শুট আউটের ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক মাস গুলোতে একের পর এক শুট আউটের ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দলীয় নেতাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, একে অপরকে লক্ষ্য করে আক্রমণ,এমনকি খুনের মতো ঘটনা রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।একদিকে দলীয় ঐক্যের অভাব,অন্যদিকে এই ঘটনা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ভাবমূর্তিকে বড় আঘাত করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।

গত বছরের নভেম্বর মাসে কলকাতার কসবার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের ওপর শুট আউটের ঘটনা চমকে দিয়েছিল সবাইকে।নিজের বাড়ির সামনে এক যুবক তাকে গুলি করতে এলে তিনি কোনোরকমে প্রাণে বাঁচেন। নতুন বছরের শুরুতেই মালদহের প্রবীণ তৃণমূল নেতা দুলাল সরকারের খুনের ঘটনা দলকে আরও অস্বস্তিতে ফেলেছে।এই খুনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দলেরই নেতা নরেন্দ্র তিওয়ারিকে গ্রেফতার করা হয়।এরপর ধারাবাহিকভাবে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় শুট আউটের ঘটনা ঘটতে থাকে। কামারহাটি,ক্যানিং,ভাটপাড়া, মালদহের কালিয়াচক এবং ব্যারাকপুরে একাধিক ঘটনা উঠে এসেছে যেখানে নিহত বা আহত হয়েছেন তৃণমূলের নেতারা।এই প্রতিটি ঘটনায় এক সাধারণ মিল হলো, হামলাকারী ও ভুক্তভোগী উভয়েই তৃণমূলের সঙ্গে জড়িত।

এই শুট আউটের পেছনে দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তৃণমূলের মধ্যে পুরনো নেতাদের সঙ্গে নবাগত নেতাদের দ্বন্দ্ব,অঞ্চল ভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে বলে মত প্রকাশ করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ঘটনাগুলো তৃণমূলের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।একদিকে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামাল দেওয়া দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এরই মধ্যে দলের নেতাদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দলবিরোধী কার্যকলাপ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

এই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটানো এবং দলীয় শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।তাই সংগঠনে অল্প বিস্তর রদবদল শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। জানুয়ারি মাসে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে শান্তনু সেন এবং আরাবুল ইসলামকে।একই ভাবে অধ‍্যাপক সংগঠন থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে বিদ্রোহী নেতাদের।আবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামীকে তাঁর আচরণের জন্য শোকজ করেছে তৃণমূল ।তৃণমূল সূত্রে খবর, বিভিন্ন এলাকায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে,যা নিরপেক্ষভাবে সমস্যাগুলি খুঁজে বের করে সমাধানের পথ দেখাবে। দলের অভ্যন্তরীণ এই অস্থিরতা মিটিয়ে যদি আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল নিজের শক্তি পুনরুদ্ধার করতে পারে, তবে তারা রাজনৈতিক লড়াইয়ে টিকে থাকবে। অন্যথায়, এই শুট আউট ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতা শাসক দলের ভরাডুবির কারণ হয়ে উঠতে পারে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ।

Share with

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *