আশ্রমে ভোরের অভিযানে মিলল অস্ত্র! সঙ্গে বাংলাদেশি সিম-নথি,আসল রহস্য কোথায়?
জলপাইগুড়ির বৃহন্নলা আশ্রমে BSF-পুলিশের যৌথ অভিযানে উদ্ধার দুই আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বাংলাদেশের সিম ও জন্মের নথি।গ্রেফতার এক মহিলা।অস্ত্র ও নথির উৎস ঘিরে তদন্তে রহস্য ঘনীভূত।

তপন রায়,মানুষের মতামত:জলপাইগুড়িতে বৃহন্নলা আশ্রমে ভোররাতে BSF-পুলিশের যৌথ অভিযান। তল্লাশিতে উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বাংলাদেশের সিম ও জন্মের নথি! গ্রেপ্তার এক মহিলা। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য জলপাইগুড়ি শহরে। জলপাইগুড়ি শহরের উত্তর রায়কতপাড়া এলাকায় বৃহন্নলা আশ্রমে ভোররাতে বিএসএফ এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের যৌথ অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সূত্রের খবর, গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কোতোয়ালি থানার পুলিশ এবং বিএসএফের আধিকারিকরা অংশ নেন।
দীর্ঘক্ষণ ধরে আশ্রম এবং সংলগ্ন একটি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। তল্লাশির পর পুলিশের হাতে আসে চাঞ্চল্যকর কিছু সামগ্রী। অভিযানকারী সূত্রের দাবি অনুযায়ী, উত্তর রায়কতপাড়ার বাসিন্দা ৫২ বছর বয়সি পিপাসা হালদার ওরফে পিপাসা হিজরার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড জীবন্ত গুলি এবং দুটি খালি ম্যাগাজিন। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে বাংলাদেশের দুটি সিম কার্ড এবং বাংলাদেশ সরকারের ইস্যু করা একটি জন্মের শংসাপত্র।
এই সমস্ত সামগ্রী উদ্ধারের পর পিপাসা হালদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ধারায় মামলা শুরু হয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।অন্যদিকে, অভিযানের সময় আশ্রমের একাধিক বাসিন্দাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। একজনকে পুলিশি নিরাপত্তায় জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও সামনে আসে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বাংলাদেশের সিম কার্ড এবং বাংলাদেশের সরকারি জন্মের শংসাপত্র ওই ব্যক্তির কাছে কীভাবে এল? উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রই বা কোথা থেকে এল? এই সামগ্রীগুলির সঙ্গে কোনও বড় চক্রের যোগাযোগ রয়েছে কি না, সেটাই এখন তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এই মুহূর্তে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক চক্র, পাচারচক্র বা অন্য কোনও অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে—এমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আরও একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য—অনলাইনে একই নামে ২০১২ সালের একটি Arms Act-সংক্রান্ত কলকাতা হাইকোর্টের মামলা পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেই পুরনো মামলার সঙ্গে আজকের অভিযানের কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এখন তদন্তকারীদের নজর উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ, বাংলাদেশের সিম এবং জন্মের নথির উৎসের দিকে। এই অভিযানের নেপথ্যে আসল রহস্য কী, তদন্ত এগোলেই তার উত্তর মিলবে।
