নতুন বছরে মহার্ঘ্য ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা: উদ্বিগ্ন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা
নিবারণ চক্রবর্তী,মানুষের মতামত:নতুন বছর আসতে চলেছে, কিন্তু মহার্ঘ্য ভাতা (ডিএ) নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। প্রথা অনুযায়ী, বছরের শেষ দিকে রাজ্য সরকার ডিএ সংক্রান্ত ঘোষণা করে থাকে। কিন্তু এবছর বড়দিনের উৎসবের সূচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে কোনও ডিএ ঘোষণার খবর পাওয়া যায়নি। এই অনিশ্চয়তা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
গত বছর বড়দিনের উৎসব শুরু করার সময় মুখ্যমন্ত্রী ৪ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিলেন। এ বছরও সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির আশা ছিল, মুখ্যমন্ত্রী ডিএ বাড়ানোর কোনও ঘোষণা করবেন। কিন্তু ১৯ ডিসেম্বর পার্ক স্ট্রিটে বড়দিনের উৎসবের সূচনা করলেও ডিএ নিয়ে কোনও বার্তা আসেনি।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের ডিএ এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-র মধ্যে ৩৯ শতাংশের ফারাক রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার নিয়মিত মহার্ঘ্য ভাতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের কর্মীদের আর্থিক সুবিধা প্রদান করে। এর ফলে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের অভিযোগ তুলছেন। রাজ্যের কর্মচারী সংগঠনগুলি বহুদিন ধরে এই ফারাক দূর করার দাবি জানালেও কোনও সমাধান আসেনি।
শোনা যাচ্ছে, আগামী বাজেটে কেন্দ্রীয় সরকার ৮ম বেতন কমিশন চালু করতে পারে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন আরও বাড়বে, যা রাজ্যের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়াবে। এ নিয়ে রাজ্য সরকারের ওপর চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতিমধ্যেই আর্থিক চাপে রয়েছে। ডিএ বৃদ্ধির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়ার অন্যতম কারণ আর্থিক ঘাটতির সমস্যা। ডিএ নিয়ে কোনও ঘোষণা না আসায় রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, ডিএ শুধুমাত্র বেতন নয়, এটি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার একটি উপায়। একজন রাজ্য সরকারি কর্মচারী বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা নিয়মিত ডিএ পেয়ে থাকেন। কিন্তু আমরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। রাজ্য সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না করে, তাহলে আন্দোলনের পথে হাঁটতে হবে।”
ডিএ বৃদ্ধির দাবি পূরণ করতে রাজ্য সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজ্যের আর্থিক সীমাবদ্ধতা। রাজ্য ইতিমধ্যেই বহু প্রকল্পের জন্য ঋণ গ্রহণ করেছে, যা পরিশোধ করা একটি বড় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া, আগামী লোকসভা নির্বাচন এবং তার পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপও রাজ্য সরকারের ওপর রয়েছে। মহার্ঘ্য ভাতা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের অসন্তোষ ও চাপ রাজ্য সরকারের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিএ-র সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সরাসরি সম্পর্ক থাকায়, কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি প্রদানে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য ডিএ-র বৈষম্য কমানোর জন্য রাজ্য সরকারকে একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, কর্মচারীদের অসন্তোষ থেকে বড় ধরনের আন্দোলন শুরু হতে পারে, যা সরকারের জন্য নতুন বছরের শুরুতেই এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।