ইন্ডিয়া জোটেই আস্থা কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের
দিলীপ চট্টোপাধ্যায়,মানুষের মতামত:ইন্ডিয়া জোটেই অটূট আস্থা কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের। ইন্ডিয়া জোটের একাধিক শরিক আঞ্চলিক দলের নেতাদের পাশে বাম শিবিরের সঙ্গেও জোটের প্রাধান্যতা ও মুখ নিয়ে তিক্ততা তৈরি হয়েছে কংগ্রেস দলের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইন্ডিয়া জোটের মুখ করার দাবি তুলেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাকে সমর্থন করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। এমন কি লালু প্রসাদ যাদব, শারদ পাওয়ারও সেই রাস্তায় মমতাকে জোটের নেত্রী করতে চান।
আঞ্চলিক একাধিক দলের নেতা-নেত্রীর বক্তব্য যে, ২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিকে হারানোর লক্ষ্যে ইন্ডিয়া জোট তৈরি হয়। রাজ্য বিধানসভাগুলির নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোট শরিক ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়বে এমন কথা হয় নি। আসলে এখন ইন্ডিয়া জোটে কংগ্রেসের প্রাধান্যতা মানতে চাইছেন না একাধিক আঞ্চলিক দলগুলির নেতা-নেত্রীরা। দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেস সম্মুখ সমরে লড়ে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি রাজনৈতিক সুযোগ নিতে পারে বলে আশংকা তৈরি হয়েছে কংগ্রেসের জাতীয় নেতৃত্বে। নতুন করে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, কংগ্রেস ইন্ডিয়া জোট অব্যাহত রাখতে চায়।
তাই ইন্ডিয়া জোট অটূট রাখতে কংগ্রেস নেতৃত্ব সক্রিয় হয়ে আঞ্চলিক দলগুলি, সি পি এম-সি পি আই সহ বাম দলগুলির সঙ্গে আলোচনা চালাতে চান। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জূন খাড়গে দিল্লি নির্বাচনের পর সংসদের ভেতর ও বাইরে ইন্ডিয়া জোটকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে বিভিন্ন শরিক দলগুলির সঙ্গে কথা বার্তা শুরু করেছেন বলে দলীয় সুত্রের খবর। এদিকে অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লি হারের পর কংগ্রেস ও গান্ধী পরিবারের ওপর বেজায় খাপ্পা। তিনি তৃতীয় জোটের রাস্তা খোলা রাখতে চাইছেন বলে প্রকাশ।
ইতিমধ্যে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জূন খাড়গেরা কংগ্রেস দলের রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে চলেছেন। বিহার বিধানসভা নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় জনতা দল ও বামপন্থীদের সঙ্গে জোট অটুট রাখতে চায় কংগ্রেস। অন্যদিকে কেরালায় কংগ্রেসের নেতৃত্বে গড়া ইউ সি এফ কে অটুট রেখেই বাম জোটকে হারিয়ে ক্ষমতা দখলের রণকৌশল রচনায় ব্যস্ত রাহুল গান্ধী ও অন্য শীর্ষ কংগ্রেস নেতারা। কেরালাতে বামজোট ও বিজেপি-আর এস এসেকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে রাহি নন রাহুল গান্ধী।
তামিলনাড়ুতে ডি এম কে জোটের শরিক হিসাবেই ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে লড়বে কংগ্রেস। এনিয়ে পি চিদাম্বরমকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অসমে কংগ্রেস বাম দলগুলির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় রাজি। কংগ্রেসের কাছে বিজেপি সার্বিক অসমে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাকে সম্বল করে কংগ্রেস এই রাজ্যকে সম্ভাবনাময় হিসাবেই দেখতে চাইছে।
পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গেও অতি সম্প্রতি দিল্লিতে রাহুল গান্ধী,
মল্লিকার্জূন খাড়গে সহ দলের নেতাদের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কংগ্রেস আপাততঃ বঙ্গে সংগঠন শক্তিশালী করার পাশে নিজেদের জনভিত্তি বাড়াতে চাইছে। নির্বাচন এলে জোট বা সমঝোতা নিয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে। আপাততঃ কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে একক শক্তিতে নানা কর্মসূচী নেবে ও সংগঠন বাড়াবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে জাতীয় কংগ্রেস যে এখনও ইন্ডিয়া জোটে আস্থাশীল তাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।