বিধানসভা ভোটের আগে ভাগেই প্রার্থী তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করছে তৃণমূল
প্রবীর পাঞ্জা,মানুষের মতামত:বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এখন থেকে প্রার্থী তালিকা প্রস্তুতের কাজ তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু করেছেন বলে সূত্রের খবর। দলের নির্বাচনী কুশলী ও রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের কর্তা প্রীতিশ জৈন দলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে নানান সুপারিশ তৈরি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিচ্ছেন বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। দলের অন্দরের খবর ৩৫-৪০ জন তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ককে প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। প্রথম দফায় ২১-র বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে হেরে যাওয়া ৭৭ আসনের প্রাথমিকভাবে প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে চাপে রাখতে কোনও প্রভাবশালী প্রার্থী দেওয়ারও ভাবনা চিন্তা চলেছে। বারাসাতে চিরঞ্জিত চক্রবর্ত্তী, ভরতপুরের হুমায়ুন কবির, বলাগড়ে বর্তমান বিধায়ক
মনোরঞ্জন ব্যাপারী সহ একাধিক নামে আপত্তি তোলা হয়েছে দলের অন্দরে। ভরতপুরে হুমায়ুন কবিরের ব্ল্যাক মেলিংকে যে দল মেনে নেবে না তাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
হুমায়ুন কবির নতুন মুসলিম রাজনৈতিক দলের ভাবনা চিন্তা নিয়ে ত্বহা সিদ্দিকী সহ একাধিক মুসলিম পীরজাদার সঙ্গে কথাও বলেছেন। মমতা ঘনিষ্ঠদের দাবি যে হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক খেলার পিছনে কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী সহ একাধিক নেতা রয়েছেন। শুধু হুমায়ুন কবিরই নয়া, তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪ বছরের শাসনে যে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তৈরি হয়েছে তার প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে জন বিন্যাসে এগিয়ে থাকা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা, ব্লক ও বুথগুলিতেও। বিজেপি-আর এস এস আবার মুসলিম প্রভাবিত এলাকায় তৃণমূলপন্থী ও তৃণমূল বিরোধী শক্তির মধ্যে লড়াই লাগাতে চাইছেন বলেই খবর। এই লক্ষ্যেই সাংসদ ও হায়দ্রাবাদের মুসলিম দল মিমকেও পশ্চিমবঙ্গে টেনে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
মুসলিম এলাকায় তৃণমূল বিরোধী অসন্তোষকে কাজে লাগাতে বাম-অতি বান-কংগ্রেস ও আই এস এফ অতি সক্রিয় বলে জানা গেছে। মুসলিম ভোটে বিভাজন সম্ভাবনায় উদ্বেগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামগ্রিক পরিস্থিতির বিচারে অতি সতর্কতার সঙ্গে আই-প্যাকের পরামর্শে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলেছে। তৃণমূলের আশা কাট-ছাটের পর এক সক্রিয়তার ময়াধ্যমে উঠে আসা প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে তৃণমূল অন্দরে।