NewsPublic Interest News

ভেজাল ওষুধের কারবার রুখতে তৎপরতা নবান্নের, চিঠি গেল বিহার ও উত্তরপ্রদেশে

জিৎ দত্ত,মানুষের মতামত:গত কয়েকদিন ধরেই ভেজাল ওষুধ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও রাজনীতি উত্তাল। এ ধরনের ভেজাল ওষুধের রমরমা রুখতে এবার তৎপর হলো নবান্ন। শুধু রাজ্যে নয় রাজ্যের বাইরেও এর শাখা-প্রশাখা, যাতে রোখা যায় তারই প্রয়াস চালাচ্ছে রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে নবান্নের পক্ষ থেকে দুই প্রতিবেশী রাজ্য বিহার ও উত্তরপ্রদেশ সরকারকে চিঠি পাঠিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। গত কয়েক দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল পরিমাণে ভেজাল ওষুধ উদ্ধার হওয়ার পরেই এই তৎপরতা দেখা গেল।

রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন ভেজাল ওষুধ কারবারিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে আন্তঃরাজ্য লেনদেনের সূত্র উঠে এসেছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে দুই প্রতিবেশী রাজ্য বিহার ও উত্তরপ্রদেশের দিকে। মনে করা হচ্ছে, ওই রাজ্যগুলি থেকেই রাজ্যে ভেজাল ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, শুধু এই দুই রাজ্য নয়, খুব শীঘ্রই দিল্লিকেও চিঠি পাঠানো হতে পারে।

রাজ্য সরকারের এক প্রবীণ আধিকারিক জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় যেভাবে ভেজাল ওষুধ ধরা পড়েছে তাতে চিন্তিত রাজ্য প্রশাসন। এর সঙ্গে যেহেতু বহু মানুষের জীবন জড়িয়ে রয়েছে, তাই বিষয়টিকে কোনোভাবেই হালকা করে নেওয়া হচ্ছে না। আর সেই জায়গা থেকেই এই ভেজাল ওষুধের উৎস সন্ধানে তৎপর হয়েছে নবান্ন।

সূত্রের দাবি, ভেজাল ওষুধের তদন্তে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের যোগসূত্রের প্রমাণ মিলেছে। তদন্তে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের বেশ কিছু জায়গার নাম উঠে এসেছে, যেখানে এই ওষুধগুলি তৈরি করা হচ্ছে। সেই তথ্য উল্লেখ করে রাজ্য সরকার ওই দুই রাজ্যের কাছে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট চেয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারাও যেন এই বিষয়ে তদন্ত করে এবং তাদের রিপোর্ট পেলে রাজ্যের তদন্ত প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও মসৃণ হবে।

নবান্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজ্য সরকার আগামী সপ্তাহেই বিস্তারিত তথ্য সহ একটি চিঠি দিল্লি পাঠাবে। দিল্লিতেও জল মিশিয়ে ওষুধ তৈরির একাধিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। শুধু ওষুধই নয়, মুনাফার লোভে ওষুধ ব্যবসার আড়ালে অবৈধ আর্থিক লেনদেনও চলছে বলে জানা গেছে। এমনকি রেবিসের মতো মারাত্মক রোগের নকল টিকা সরবরাহের খবরও পাওয়া গিয়েছে। ভেজাল ওষুধের কারবার নিয়ে কেন্দ্র সরকারও ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যকে সতর্ক করেছে।

Share with

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *