NewsPolitics

ভূতুড়ে ভোটার বিতর্কে সরগরম রাজ্য, ময়দানে তৃণমূল-বিজেপির রাজনৈতিক লড়াই

জিৎ দত্ত,মানুষের মতামত:ভোটার তালিকা নিয়ে রাজ্যের রাজনীতি এখন উত্তপ্ত। ভূতুড়ে ভোটার সংযোজনের অভিযোগ ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজে ময়দানে নেমে ভোটার তালিকা যাচাই শুরু করেছেন। শনিবার চেতলা এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোটারদের নাম যাচাই করেন তিনি। ভোটার তালিকা হাতে নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং যাচাই করেন, প্রকৃত ভোটাররা তালিকায় রয়েছেন কিনা।

তৃণমূলের তরফে আগে থেকেই ঘোষণা করা হয়েছিল, ভূতুড়ে ভোটার চিহ্নিত করার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই অনুসারে, শনিবার থেকেই মাঠে নেমেছে দল। ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ভুয়ো ভোটারের প্রয়োজন নেই, প্রকৃত ভোটারদের ভোটেই আমরা জয়ী হব।”

ভোটার তালিকায় গরমিল ও বহিরাগতদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতাজি ইনডোরের সভা থেকে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ মদতে বাংলার ভোটার তালিকায় গুজরাট, হরিয়ানা, রাজস্থান, বিহারের ভোটারদের ঢোকানো হচ্ছে। বিজেপির ষড়যন্ত্র চলছে, আর কমিশন সেটা প্রশ্রয় দিচ্ছে।”

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ভোটার তালিকা যাচাই শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ভোটার তালিকায় কারচুপি করে নিজেদের সুবিধা আদায় করতে চাইছে। অন্যদিকে, বিজেপির পাল্টা দাবি, তৃণমূলই রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা করছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূল ভূত খোঁজার নামে জিন ঢোকাচ্ছে। বাংলার প্রকৃত ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে।”

বিজেপির আরও দাবি, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আধার ও এপিক কার্ডের সংযোগ বাধ্যতামূলক করা উচিত এবং বায়োমেট্রিক সিস্টেমের মাধ্যমে ভোট পরিচালনা করা দরকার। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে অভিযোগ করেছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং কমিশনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”

এদিকে, ভোটার তালিকা বিতর্কে কংগ্রেসও তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “যে রাজ্যে বিজেপির সরকার নেই, সেখানে তৃণমূলের হাতে প্রশাসন। তাহলে এখানেও যদি কারচুপি হয়, তার দায় তৃণমূলকেই নিতে হবে।”

রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন, যারা ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম ঢোকানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, “ভোটার তালিকায় কারচুপি করলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে এই ধরনের ঘটনা রুখে দেওয়া যায়।”

তৃণমূল ভবনে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগ শোনার জন্য প্রতিদিন একজন শীর্ষ নেতা উপস্থিত থাকবেন। ইতিমধ্যেই একটি রোস্টার তৈরি করা হয়েছে এবং ভোটার যাচাই অভিযানের রিপোর্ট দ্রুত নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এই বিতর্ক আরও তীব্র হবে। তৃণমূল ও বিজেপি উভয়েই নিজেদের অবস্থানে অনড়। এই রাজনৈতিক সংঘাত রাজ্যের ভোটের পরিবেশ কতটা প্রভাবিত করবে, সেটাই এখন দেখার।

Share with

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *