NewsPolitics

বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য ‘কল্পতরু’ হবেন মমতা?

 

নিজস্ব প্রতিবেদক,মানুষের মতামত:নরেন্দ্র মোদি সরকার সদ্য ঘোষিত বাজেটে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়ে কর ছাড় দিয়ে দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মন জয় করার চেষ্টা করেছে। এবার কি সেই পথেই হাঁটবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস কি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জন্য বড়সড় জনমুখী বাজেট নিয়ে আসতে চলেছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পচিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকেও এমন কিছু পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা রাজ্যের মানুষের মনে আশার সঞ্চার করবে।

মধ্যবিত্তকে পাশে পেতে নতুন ঘোষণা?

রাজ্য সরকার এতদিন মূলত কৃষক, গরিব, এবং পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছে। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, খাদ্যসাথী, এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন স্কলারশিপের মতো উদ্যোগে তৃণমূল সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। কিন্তু মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য সরাসরি কোনো বড় ঘোষণা তেমন দেখা যায়নি।

কেন্দ্রের বাজেট ঘোষণার পর রাজ্যের মধ্যবিত্তরা কিছুটা আশা করছিলেন, রাজ্য সরকারও তাদের জন্য কিছু সুবিধা নিয়ে আসবে। প্রশাসন সূত্রের খবর, এবার সেই দিকেই নজর দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি কর্মচারীদের জন্য ডিএ বৃদ্ধি, আয়কর ছাড় সংক্রান্ত কিছু নতুন সিদ্ধান্ত, স্ট্যাম্প ডিউটি ছাড়, কিংবা বিদ্যুৎ বিল বা ট্রান্সপোর্ট সংক্রান্ত ভর্তুকির মতো কিছু ঘোষণা থাকতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বাড়তি টাকা – ভোটের আগে বড় পদক্ষেপ?

তৃণমূল সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’— যা রাজ্যের গৃহবধূদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেয়। বর্তমানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা ১০০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি-জনজাতির মহিলারা ১,২০০ টাকা পান। এবার এই পরিমাণ ৫০০ টাকা করে বাড়তে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে। অর্থাৎ, নতুন ঘোষণায় সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তপশিলি শ্রেণির মহিলারা ১,৭০০ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের অর্থনীতির উপর বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস মনে করছে, নির্বাচনের আগে মহিলাদের আরও বেশি পাশে পেতে এই পদক্ষেপ কার্যকরী হতে পারে।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর আসবে?

রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরেই ডিএ (মহার্ঘভাতা) বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় রাজ্যের কর্মচারীরা অনেক কম হারে ডিএ পান, যা নিয়ে বারবার আন্দোলন হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, এবার সেই দাবির কিছুটা সমাধান করতে ৪-৬ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর ঘোষণা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।

তবে, এটা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব ভালো নেই, এবং বাড়তি ডিএ দিলে সরকারের উপর বড় আর্থিক বোঝা পড়বে। তবুও, ভোটের আগে কর্মচারীদের মন জয়ের জন্য কিছুটা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নতুন জনমুখী প্রকল্প আসছে?

রাজ্য সরকারের একাংশ মনে করছে, শুধু মধ্যবিত্ত নয়, নিম্নবিত্ত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্যও নতুন প্রকল্প আসতে পারে। বিশেষ করে, শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট সংযোগ, রেশন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা, এবং গরিবদের জন্য বাড়তি ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এছাড়া, পরিবহণ খাতে মধ্যবিত্তদের কিছু সুবিধা দেওয়া হতে পারে, যেমন মেট্রো রেলের টিকিটে ছাড়, সরকারি বাস পরিষেবায় বিশেষ ভর্তুকি, কিংবা টোল ফি কমানোর মতো কিছু পদক্ষেপ।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন: কল্পতরু বাজেট হবে তৃণমূলের মূল হাতিয়ার?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালে বিপুল জয়ের পর তৃণমূলের মূল লক্ষ্য থাকবে সেই ভোটব্যাংক ধরে রাখা। তবে, বিজেপি ইতিমধ্যেই প্রচারে নেমে পড়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জনমুখী প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।

তাই, তৃণমূল কংগ্রেসও এবার বড়সড় ‘কল্পতরু বাজেট’ নিয়ে আসতে চাইছে, যা সরাসরি মানুষের মন ছুঁয়ে যাবে। মধ্যবিত্তদের উপর জোর দিয়ে বাজেট ঘোষণা করা হলে বিজেপির প্রচারের মোকাবিলা করতে সুবিধা হবে।

চ্যালেঞ্জ কী?

যদিও এই সমস্ত ঘোষণা মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করবে, তবুও বড় প্রশ্ন হলো – রাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক কাঠামো এত বড় ব্যয়ভার বহন করতে পারবে কি? রাজ্যের ঋণের বোঝা ইতিমধ্যেই বাড়ছে, এবং কেন্দ্রের কাছ থেকে বকেয়া টাকা আদায় নিয়ে জটিলতা রয়ে গেছে। এই অবস্থায়, বড়সড় জনমুখী প্রকল্প ঘোষণা করা হলেও তা বাস্তবায়িত করা কঠিন হতে পারে।

বাংলার রাজনীতিতে বাজেট সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কেন্দ্র যখন মধ্যবিত্তের উপর বিশেষ নজর দিচ্ছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারও পিছিয়ে থাকতে চাইবে না। নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে তিনি হয়তো বড়সড় মাস্টারস্ট্রোক দেবেন, যা বিজেপির ভোট কৌশলের মোকাবিলায় কাজে আসবে। এখন শুধু অপেক্ষা নবান্নের চূড়ান্ত ঘোষণার!

Share with

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *