বিজেপিকে জোর ধাক্কা দিতে তৃণমূলের পাশে কংগ্রেস
দিলীপ চট্টোপাধ্যায়,মানুষের মতামত:প্রদেশ কংগ্রেসের নতুন সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের যে অধীর চৌধুরীর মত গণ ভিত্তি নেই তা মানেন হাইকমান্ড। অধীর চৌধুরীর উগ্র মমতা বিরোধিতার রাজনীতিতে হাইকমান্ড শিলমোহর দিতে চায়নি বলেই জানা গিয়েছে। সেকারণে সাংগঠনিক নেতা হিসাবে শুভঙ্কর সরকারের মত গণ ভিত্তিহীন একজনকে প্রাধান্য দিতে চেয়েছেন।
কংগ্রেস হাইকম্যান্ড বঙ্গেও বিজেপি বিরোধিতার রাজনীতিকেই প্রাধান্য দিতে চাইছেন। সেই লক্ষ্যেই অধীর চৌধুরীর বদলে শুভঙ্কর সরকারকে সামনে আনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে শুধু সাংগঠনিক নেতৃত্বের পরিবর্তনই নয়, কৌশলগত রাজনীতির পরিবর্তন ঘটাতে চায় কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। অধীর চৌধুরীকে এই লক্ষ্যেই পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে গণ ভিত্তিহীন নেতা শুভঙ্কর সরকারকে সেই স্থানে আনা হয়েছে।
ইন্ডিয়া জোটের শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলির বন্ধুত্ব ও বশ্যতা স্বীকারেও রাজি কংগ্রেস। দিল্লি নির্বাচনে তাই কংগ্রেস হাইকম্যান্ড নির্বাচনের মুহুর্তে আম আদমি পার্টি ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল নিয়ে নরমনীতি নিতে চাইছেন। পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সম্পর্কে অতি নরম নীতি চাইছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব।
জাতীয় রাজনীতি ও বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল বিরোধী অবস্থানের পরিবর্তনই কংগ্রেস নেতৃত্বের লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জূন খাড়গে ছাড়া রাহুল গান্ধী ঘনিষ্ঠ জয়রাম রমেশ, পবন মেরা প্রমুখরা পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলার পক্ষে। অতি সম্প্রতি অধীর চৌধুরী দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জূন খাড়গে, রাহুল গান্ধী প্রমুখদের সঙ্গে দেখা করে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে যে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। তৃণমূল সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের যে কোন ধরণের নরমনীতি যে কংগ্রেসের আত্মহত্যার রাজনীতি হবে ও সামগ্রিক ভাবে এতে বিজেপি লাভবান হবে বলে অধীরের সতর্ক বার্তায় কান দিতে চাইছেন না কংগ্রেস হাইকম্যান্ড।
জাতীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছেন যে পশ্চিমবঙ্গে বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ে কংগ্রেসের লাভ হবে না। কংগ্রেসের মমতা বিরোধিতা কার্যত গেরুয়া শিবিরকেই খুশি করছে।
পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন যে, জাতীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব যে পশ্চিমবঙ্গে প্রতি মুহুর্তে মমতা বিরোধিতার লাইন চলতে দেবেন না তা পরিস্কার। ইন্ডিয়া জোটকে টিকিয়ে রাখতে তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে নরম নীতি চাইছেন কংগ্রেস হাইকম্যান্ড।