গ্রাম ঘিরে রাতভর অভিযান,পুলিশের গুলিতে মৃত মূল অভিযুক্ত সাজ্জাক!
সানি রায়,মানুষের মতামত:পুলিশের এনকাউন্টারে হত পাঞ্জিপাড়াকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সাজ্জাক আলম। পুলিশের দাবি, গোয়ালপোখর থানার সাহাপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীপুরে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল সাজ্জাক। সেইসময় তিন রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশ। পুলিশের গুলি গিয়ে লাগে সাজ্জাকের গায়ে। জখম অবস্থায় তাকে লোধন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক রাজীব কুমার বলেছিলেন, দুষ্কৃতীরা যদি পুলিশকে লক্ষ্য করে একটি গুলি চালায়, তাহলে পুলিশ চারটি গুলি চালাবে। এরপর উত্তর দিনাজপুরের পাঞ্জিপাড়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজীব কুমার। কথা হয় উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তাদের সঙ্গে। তারপরই সরাসরি অ্যাকশনে নামে পুলিশ। দুই পুলিশকর্মীর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয় রাজ্য পুলিশ। উপরমহল থেকে বার্তা আসে যেভাবেই হোক দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিযুক্ত দু’জনের মধ্যে একজনের বাংলাদেশ যোগ প্রকাশ্যে আসায় আরও চাপে পড়ে যায় পুলিশ। ভারত-বাংলাদেশের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে কোন বাংলাদেশী দুষ্কৃতীর ভারতে এসে অপরাধ সংগঠিত করার ঘটনা যে ভুলবার্তা দেবে তা বিলক্ষণ বুঝতে পারে প্রশাসন। সেইমতো পরিকল্পনা করা হয়।সম্প্রতি পাঞ্জিপাড়া থানার অধীন ইকরচলা কালীবাড়ি এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। ইসলামপুর কোর্ট থেকে পুলিশের গাড়িতে করে খুনের মামলায় বিচারাধীন বন্দি সাজ্জাক আলমকে রায়গঞ্জে যাওয়ার সময় এই শুটআউট হয়। তাতে গুলিবিদ্ধ হন ২ পুলিশকর্মী। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ থানার পুলিশ কয়েকজন আসামিকে নিয়ে ইসলামপুর আদালত থেকে রায়গঞ্জের উদ্দেশে যাচ্ছিল। সেই সময় করণদিঘির খুনের মামলায় বিচারাধীন বন্দি সাজ্জাক আলম শৌচাগারে যেতে চেয়ে গাড়ি থামানোর অনুরোধ করে পুলিশকে। একাধিকবার অনুরোধের পর পুলিশ পাঞ্জিপাড়ার কাছে গাড়ি থামিয়ে সাজ্জাককে শৌচকর্ম করতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ফেরত আসার সময় দুই পুলিশকর্মী নীলকান্ত সরকার ও দেবেন বৈশ্যর উপর বন্দুক নিয়ে হামলা হয় বলে অভিযোগ। জখম অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন দুই পুলিশকর্মী। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় সাজ্জাক। সেই থেকে সাজ্জাকের খোঁজ শুরু হয়।এই ঘটনায় সামনে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। জানা যায়, যে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে হামলা চালিয়ে ২ পুলিশকর্মীকে জখম করা হয়েছিল সেই আগ্নেয়াস্ত্র ইসলামপুর কোর্ট লক আপেই অভিযুক্তের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেই আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে নিয়েই পুলিশের সঙ্গে গাড়িতে ওঠে সাজ্জাক আলম। পরে রাস্তায় শৌচাগারে যাওয়ার জন্য গাড়ি দাঁড় করাতে পুলিশকে কার্যত বাধ্য করে সে। শেষ পর্যন্ত গুলি চালিয়ে সে পালিয়ে যায়। তদন্তে উঠে আসে অপর ব্যক্তি আব্দুল হুসেনের নামও। এই আব্দুল হুসেনই সাজ্জাককে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করেছিল বলে খবর। দু’জনের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। সাজ্জাক ও আব্দুলকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয় পুলিশের তরফে। পুলিশ সূত্রের খবর, সাজ্জাকের খোঁজে একাধিক টিম তল্লাশিতে নেমেছিল। নজর রাখা হচ্ছিল সিসিটিভিতেও। তিনটি গ্রামকে গতকাল রাতে পুলিশ ঘিরে নেয়। এরপরই সাজ্জাকের গতিবিধি জানতে পারেন তদন্তকারীরা। তবে ফের পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়।