শনিবার, সেপ্টেম্বর 12, 2026
11:08:01 | কলকাতা

ভাঙন সামলে বিজেপিকে রুখতে জোটের পথে তৃণমূল? বদলাচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ? 

kolkataরাজনীতি

বিজেপিকে রুখতে বৃহত্তর জোটের তৎপরতা শুরু?বাম, অতি বাম, কংগ্রেস ও আইএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের জল্পনা। ভাঙন সামলে ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা মমতার।

দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, মানুষের মতামত:পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও তাদের সুপ্রিম নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার রাজ্যে হিন্দুত্ববাদী শক্তি বিজেপির বিরুদ্ধে জোটের রাস্তায় বামপন্থী দলগুলি অতি বামপন্থী দলগুলি কংগ্রেস আইএসএফ সহ বিভিন্ন ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ও বিজেপি বিরোধী শক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোট নিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন সিপিএমের সদর দপ্তরে। শুধু তাই নয় তিনি আরএসপি,ফরওয়ার্ড ব্লক,সিপিআই, সিপিআইএমএল, লিবারেশন,এসইউসি ও বিভিন্ন একাধিক নকশালপন্থী গোষ্ঠীর কাছেও বার্তা পাঠিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নওশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফ এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গেও তার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিজেপির অন্দরের খবর যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহত্তর বিজেপি বিরোধী জোট গঠন করে তার নেতৃত্ব দিতে চাইছেন। জানা গেছে যে বামপন্থী অতি বামপন্থী শিবির তো বটেই আইএসএফ কংগ্রেসেরও এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং বোঝাপড়ার প্রশ্নে দ্বিমত নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দলের অতীত কার্যকলাপ নিয়ে এই মুহূর্তে তেমন চিন্তা নেই সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য তথা দলের রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিমের। মোহাম্মদ সেলিম ইতিমধ্যে মহুয়া মৈত্র সহ একাধিক বিজেপি বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাদের উপর আক্রমণ বিক্ষোবের ঘটনায় পরিষ্কার নিন্দাও করেছেন মোহাম্মদ সেলিম যা রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল মনে করছেন যে আগামী দিনে রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক জোটের সম্ভাবনা খারিজ করা যাচ্ছে না। তবে এই মুহূর্তে বিধ্বস্ত ও ভগ্ন তৃণমূলকে জোড়া লাগানোর কিভাবে চেষ্টা চলে সেদিকে তাকিয়ে রয়েছেন রাজনৈতিক মহল।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৪ জন তৃণমূল বিধায়ক আলাদা দল গঠন করে নির্বাচন কমিশনের কাছে স্বীকৃতির আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এনসিপিআই নামক একটি দলে যোগ দিয়ে এনডিএ এর শরিক হয়েছেন।খলিলুর রহমান ও আবু তাহের সহ তিনজন মুসলিম সংখ্যালঘু সাংসদ এনডিএ বা বিজেপির সাথে থাকতে নারাজ। তারা তৃণমূলে ফেরা, নির্দল হওয়া বা কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন।তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও তহবিল কার অধীনে থাকবে,সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো চূড়ান্ত রায় এখনো আসেনি। উপনির্বাচনের আগে রায় না এলে উভয় পক্ষকেই নির্দল প্রতীক নিয়ে লড়তে হতে পারে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও রাজ্য বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোটের রাজনীতিতে ফিরতে চাইছেন। এজন্য সিপিআইএম, সিপিআইএমএল লিবারেশন এবং এসইউসিআই এর মতো বামপন্থী দলগুলোর নেতাদের সাথে গোপন বৈঠক ও যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে খবর।

Share with

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।